Published on
:
2 min read
স্নেহাশিস নিয়োগী
উচ্চশিক্ষায় জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (এনইপি) কার্যকরের পাশাপাশি শিক্ষানবিশি কোর্স চালু এবং হাতেকলমে শিক্ষায় জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার জন্যে অগ্রাধিকারের চারটি বিষয়ও চিহ্নিত করেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর—অ্যাপ্রেনটিশসিপ এমবেডেড ডিগ্রি প্রোগ্রাম বা শিক্ষানবিশি-নির্ভর ডিগ্রি কোর্স, চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম, ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। এনইপি–র হুবহু বাস্তবায়নে এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ ওয়ার্কিং গ্রুপও তৈরি হয়েছে। রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেই এ ব্যাপারে নোডাল ইউনিভার্সিটি হিসেবে বেছে নিয়েছে বিকাশ ভবন।
শিক্ষানবিশি-নির্ভর ডিগ্রি কোর্সের দায়িত্ব সামলাবে যাদবপুর, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ম্যাকাউট), বিদ্যাসাগর এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম তৈরির দায়িত্ব পড়েছে কলকাতা, গৌড়বঙ্গ এবং বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপরে। ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির দায়িত্বে থাকবে প্রেসিডেন্সি, কল্যাণী এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মালব্য মিশন টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রামের অধীনে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি, বর্ধমান এবং সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্যের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্য ও আধিকারিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পড়ার সঙ্গেই শিল্পক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ
শিক্ষানবিশি-নির্ভর ডিগ্রি কোর্সের ক্ষেত্রে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কোন কোন বিষয়ে শিক্ষানবিশির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। কোন স্নাতক পাঠ্যক্রমে এই ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো কতটা উপযুক্ত এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয় কী ভাবে বাড়ানো যায়—তা নিয়েও পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ইউজিসি–র নির্দেশিকা মেনেই তা কার্যকরের পাশাপাশি ২০২৭–এর জানুয়ারি থেকে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে তা শুরু করা যাবে, সেই তালিকাও তৈরি করতে হবে।
স্নাতক পাঠ্যক্রমে কী বদল
চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রমের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। শিক্ষক, পরিকাঠামো, গবেষণাগার এবং গ্রন্থাগারের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় ও পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্যও খতিয়ে দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মেজর ও মাইনর, বহু বিষয়ক পাঠ্যক্রম, দক্ষতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং মূল্যবোধ ভিত্তিক কোর্সের সমন্বয়ে একটি আদর্শ পাঠ্যক্রম ও ক্রেডিট কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চতুর্থ বর্ষে গবেষণা বা অনার্সের বিশেষ পথও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি একাধিক পর্যায়ে ভর্তি ও কোর্স ছাড়ার সুযোগ, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা, ইন্টার্নশিপ এবং সমাজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংযোগ বাড়ানোর পদ্ধতি নিয়েও সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
ক্রেডিট ব্যবস্থায় জোর
ন্যাশনাল ক্রেডিট ফ্রেমওয়ার্কের ক্ষেত্রে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই ব্যবস্থা চালুর উপযোগিতা খতিয়ে দেখা হবে। পড়াশোনা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা নির্ভর শিক্ষায় একটি অভিন্ন ক্রেডিট কাঠামো তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া অ্যাকাডেমিক ব্যাঙ্ক অফ ক্রেডিটসে (এবিসি) প্রতিষ্ঠান ও পড়ুয়াদের নথিভুক্তিকরণ, ক্রেডিট জমা এবং স্থানান্তর, পূর্বে অর্জিত শিক্ষার স্বীকৃতি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
মালব্য মিশন টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রামের অধীনে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই হবে। প্রশিক্ষণের জন্যে পরিকাঠামো, বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। শিক্ষকদের জন্যে পরিচিতিমূলক ও ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এনইপি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে।
প্রতিটি ওয়ার্কিং গ্রুপকে নিজেদের থেকেই আহ্বায়ক ও আগে গঠিত টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে একজন সমন্বয়কারী আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে। তারা সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি, ঘাটতি ও প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে তা প্রচার করবে। টাস্ক ফোর্সে নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে হবে।