দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীবাসীর পৌরসভা গঠনের স্বপ্ন। ঐতিহ্যবাহী কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক উদ্যোগ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
১৯০৮ সালে কাশিয়ানী থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পার্শ্ববর্তী মুকসুদপুর উপজেলা ২০০০ সালে পৌরসভায় উন্নীত হলেও নানা জটিলতায় পিছিয়ে ছিল কাশিয়ানী। তবে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নতুন গতি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, কাশিয়ানী পৌরসভায় উন্নীত হলে সড়ক যোগাযোগ, পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পৌরসভা গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে খায়েরহাট গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক নিজামুল আলম মুরাদ বলেন, “ব্রিটিশ আমল থেকেই কাশিয়ানীর আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটি পিছিয়ে পড়েছে। পৌরসভা গঠিত হলে নাগরিকদের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে।”
কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা মোল্লাও সংসদ সদস্যের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, কাশিয়ানীকে পৌরসভায় রূপান্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোসহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, “কাশিয়ানীকে পৌরসভায় উন্নীত করা সময়ের দাবি এবং এটি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। সড়ক নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনসহ সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
সীমানা নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাশিয়ানীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পৌরসভা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো বাকি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
