ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিগুলোর একটি ব্যালন ডি’অর। ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ৭০তম আসরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আজ (২৫ অক্টোবর) রাতে, লন্ডনের জমকালো অনুষ্ঠানে।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব, ফ্রান্সের বাইরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। প্রথম বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ইংল্যান্ডে আয়োজন করা হচ্ছে এই অনুষ্ঠান।
ব্যালন ডি’অরের দীর্ঘ ইতিহাসে কিছু জয় কেবল ব্যক্তিগত অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বদলে দিয়েছে ফুটবলের ইতিহাসও। সেসবের মধ্য থেকে গুরুত্ব বিবেচনায় পাঁচটি জয় তুলে ধরা হলো।
স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬)
ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। তার এই অর্জন পুরস্কারটির যাত্রাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল। ইউরোপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিপুল সম্মান পাওয়া এই ইংলিশ কিংবদন্তি পুরস্কার জয়ের সময় ছিলেন ৪১ বছর বয়সী। ৪১ বছর ১০ মাস ১৭ দিন বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতে এখনো সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন ম্যাথিউস।
জর্জ উইয়াহ (১৯৯৫)
আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে জর্জ উইয়াহর ১৯৯৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়। নিয়ম পরিবর্তন করে ইউরোপীয় ক্লাবে খেলা অ-ইউরোপীয় ফুটবলারদের এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচনা করার পর প্রথম আফ্রিকান খেলোয়াড় হিসেবে এটি জেতেন লাইবেরিয়ার এই তারকা। পুরুষদের ব্যালন ডি’অরে এখন পর্যন্ত একমাত্র আফ্রিকান বিজয়ীও তিনি।
রোনালদো নাজারিও (১৯৯৭)
মাত্র ২১ বছর বয়সে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। সবচেয়ে কম বয়সে এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড এখনো তার দখলে। বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত হয়েছিলেন রোনালদো। তার গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারদের কাতারে জায়গা করে দেয়।
ফাবিও ক্যানাভারো (২০০৬)
২০০৬ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ইতালির ফাবিও ক্যানাভারো। ওই বছর জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইতালিকে শিরোপা জেতাতে অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। একই বছরে জুভেন্টাসের হয়ে সিরি’আ জেতার অভিজ্ঞতাও ছিল তার। তবে ক্যালচিওপলি কেলেঙ্কারির পর ক্লাবটির সেই শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়।
ক্যানাভারোর জয় আরেকটি কারণে বিশেষ। ২০০৬ সালের পর গত দুই দশকে কোনো ডিফেন্ডার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ইতিহাসে এই পুরস্কার জেতা ডিফেন্ডারের সংখ্যা মাত্র তিন- ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ম্যাথিয়াস সামার ও ফাবিও ক্যানাভারো।
লিওনেল মেসি (২০০৯)
আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধ্যায়গুলোর একটি লিওনেল মেসির। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার জেতেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এরপর আরও সাতবার পুরস্কারটি জিতে মোট আটটি ব্যালন ডি’অর নিজের করে নেন তিনি, যা সর্বোচ্চ। পেপ গার্দিওলার অধীনে ২০০৮-০৯ মৌসুমে বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মেসি। ওই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৮ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন ১৯ গোল।
২০০৯ সালের জয়টি ছিল মেসির টানা চারটি ব্যালন ডি’অর জয়ের প্রথমটি। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা চারবার এই পুরস্কার জিতে গড়েন অনন্য রেকর্ড। এরপর ২০২৩ সালে অষ্টমবারের মতো পুরস্কার জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি।
অনিক/
