
স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে দেশে চা উৎপাদন প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও নিলামে চায়ের দাম ছিল বেশি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চলতি বছর চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ৮ মাসে দেশে মোট ৫ কোটি ৭৯ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৯৫ লাখ কেজি। অর্থাৎ, উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে এটিই সর্বোচ্চ চা উৎপাদন।
এ বছর বৃষ্টিপাতও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল শ্রীমঙ্গলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৯৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ, বৃষ্টিপাত বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। এর আগে ২০২৩ সালে দেশে ১০ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার কেজি চা (১০২.৯২ মিলিয়ন) উৎপাদিত হয়েছিল, যা ছিল সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৬টি নিলামে ৫ কোটি ১৯ লাখ কেজি চা বিক্রি হয়েছে। এর মোট মূল্য ১ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ২৮২ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় নিলামে চা বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। আর বিক্রির মোট মূল্য বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।
২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪-২৫ নিলাম মৌসুমের প্রথম ২০টি নিলামে পরীক্ষামূলকভাবে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে চা বোর্ড। ইতিবাচক ফল পাওয়ায় ২০২৫ সালের মে মাসে এ নীতি সারা দেশে কার্যকর করা হয়।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ নিলাম বছরের মধ্যে নিলামে চায়ের বার্ষিক বিক্রি প্রায় ৫৬২ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সময়ে চায়ের গড় দামও বেড়েছে। চা বোর্ডের তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত চা-বাগানের সংখ্যা ১৭২। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চল ও পার্বত্য দুই জেলায় ক্ষুদ্র চাষিরাও চা চাষ করেন। ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের ৪৭ শতাংশ এসেছে মৌলভীবাজার জেলা থেকে। অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা থেকে উৎপাদিত হয়েছে মোট চায়ের প্রায় ২১ শতাংশ।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি, অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, চা বোর্ডের তদারকি এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) দিকনির্দেশনা উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
