ফ্রান্সে উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, মানসম্মত জনসেবা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে চলা এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরকারি ব্যয় সংকোচনের প্রতিবাদে গত শনিবার দেশজুড়ে প্রায় চার লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। রাজধানী প্যারিসে সমবেত হন প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ।
আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষা খাতে সরকারি বরাদ্দ কমে যাওয়া। তাঁদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে ৩২ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে পড়তে হচ্ছে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ, পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন এবং শীতল। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ লুকাস শ্যানসেলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা, শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন এবং গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। ফলে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং শিক্ষাজীবনের ব্যয় কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে।
শিক্ষকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, কাজের চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি। সংশ্লিষ্ট এক প্রতিবেদনের হিসাবে, ফ্রান্সের বিদ্যালয় শিক্ষকদের গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৪১ হাজার ৯৬৮ ইউরো। জার্মানিতে একই পেশায় গড় বেতন প্রায় ৬৯ হাজার ৪৫৩ ইউরো।
এদিকে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের চাপও বাড়ছে। প্রস্তাবিত ২০২৭ সালের বাজেটে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় সংকোচন ও করসংক্রান্ত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপ শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দেশটির সম্পদের অসম বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হলেও দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ আর্থিক ও অনার্থিক সম্পদের মালিক তাঁরা।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু তরুণদের ক্ষোভের কথা স্বীকার করে সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ব্যয় বাড়ানো কিংবা কমানো দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না। শিক্ষা ও জনসেবার উন্নয়ন, সম্পদের ন্যায্য বণ্টন এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
