ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (রাত) গভীর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার রাতে প্রহ্লাদ দাসকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি এক পুলিশ সদস্যের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে কীভাবে অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেন এবং কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রহ্লাদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর প্রহ্লাদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে বাড়ির কাছের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল ওই ছাত্রী। রাতে একটি ফোনকল পাওয়ার পর সে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন রোববার সকালে এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে তার ক্ষতবিক্ষত ও বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চলতি বছরের জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও পুলিশের ভাষ্য ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্যের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
গাইঘাটার সাম্প্রতিক ঘটনাটির সঙ্গে বারুইপুরের ওই ঘটনার মিল থাকায় পুলিশের ভূমিকা এবং বন্দুকযুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গাইঘাটার ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
