জামালপুরে এক সরকারি কর্মকর্তার ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বেসরকারি এমএ রশিদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই সরকারি কর্মকর্তার নাম সাবেরী শারমিন। তিনি জামালপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁকে আরও তিনবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মামলার বিষয়টি জানা যায়। এর আগে সোমবার জামালপুর আমলি আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে জামালপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, এমএ রশিদ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে এমএ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হন সাবেরী শারমিন।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান ডিম্বাশয়ে রক্তভর্তি সিস্ট রয়েছে। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
সাবেরী শারমিনের অভিযোগ, এ সময় তাঁর বা তাঁর স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা হয়। তবে কাটা অংশের কিছু অংশ শরীরের ভেতরে থেকে যায়। পরে সংক্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা আবার অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে তিনি এমএ রশিদ হাসপাতাল ছেড়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।
সেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয়। তাঁর দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় আগের অস্ত্রোপচারের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে। এরপরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে যান সাবেরী শারমিন। সেখানে ২৩ মার্চ তৃতীয় দফায় এবং ২০ জুন চতুর্থ দফায় তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
সাবেরী শারমিন বলেন, ‘একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি অপারেশন করাতে হয়েছে। তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই। এমএ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।’
তাঁর স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, ‘এমএ রশিদ হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সাবেরী শারমিন দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমএ রশিদ হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার ছিব্বির আহম্মেদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন এই প্রতিবেদক। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বাইরে থাকার কথা জানিয়ে পরদিন ফোন করবেন বলেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘২৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আমরা আদালতের আদেশ হাতে পাই। আদালত স্বাস্থ্য বিভাগকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেব।’
