ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নির্বাচনি নিরাপত্তা কার্যক্রম সম্পর্কে এসব তথ্য জানায় বিজিবি।
এর আগে, রবিবার (২৫ অক্টোবর) থেকে নির্বাচনি এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
নির্বাচনি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি কে-৯ ডগ ইউনিটের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল।
বিজিবির সেক্টর কমান্ডার মো. সুরুজ মিয়া জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং ভোটাররা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।
বিজিবি আরও জানায়, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন সদস্যরা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।
বিধান চন্দ্র দাস/সালমান/
আরও পড়ুন
ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিদ মৃধা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিদ মৃধাকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তানজিদ মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ আরও দুই নেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার ঝড় বইছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, আটকের সময় তানজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আরও পড়ুন
এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদকে দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাকে নিয়ে যান। তবে রাতে তানজিদ যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে আমরা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল বলেন, ‘নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি সত্য হয়ে থাকলে, এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শাহাদাত হোসেন/অলি
আরও পড়ুন
ঝালকাঠিতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সাঁকো নির্মাণ
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ এএম
বাড়ানি খালের ওপর কাঠের সাঁকো নির্মাণ করছেন যুবকরা। গতকাল ঝালকাঠির রাজাপুরে বদনিকাঠি এলাকায়।ছবি: খবরের কাগজ
-->ঝালকাঠির রাজাপুরে বাড়ানি খালের ওপর জরাজীর্ণ পুলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে স্বেচ্ছাশ্রমে কাঠের সাঁকো নির্মাণ করেছে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। গত শনিবার দিনব্যাপী সংগঠনটির ৩০ জন যুবক এ কাজে অংশ নেন। সাঁকোটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের বদনিকাঠি এলাকায় বাড়ানি খালের ওপর প্রায় ৫৫ ফুট দীর্ঘ একটি পুরোনো লোহার পুল ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন খালের দুই পাড়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা পুলটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি বিষয়টি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নজরে আসে। এরপর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংগঠনটি নিজস্ব অর্থায়নে কাঠের পুল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলটি ছয় থেকে সাত বছর ব্যবহার করা যাবে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বৃদ্ধ আবুল কাশেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালের দুই পাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে ছিলেন। পুলটি নির্মাণ হওয়ায় আমরা খুব খুশি। এখন এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যাতায়াতে আগের মতো অসুবিধায় পড়তে হবে না।’
স্থানীয় যুবক শাহাদাৎ ব্যাপারী বলেন, ‘পুলটি জরাজীর্ণ থাকায় পারাপারের সময় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। পুলটি নির্মাণের ফলে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মঠবাড়ি ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহাদাৎ জানান, এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বদনিকাঠিসহ আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের কষ্ট কমবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা এ কাজ করেছেন।
সমাজসেবক জাকির হোসেন খান বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রত্যেক মানুষের জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। সব সময় সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের সমস্যা সমাধানে নিজেদেরও উদ্যোগ নিতে হবে।’
আরও পড়ুন
শঙ্কার মধ্যেও আশার আলো পটুয়াখালীর উপকূলে বাড়ছে সবুজের বিস্তার
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ এএম
বনবিভাগের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সবুজ ঝাউবাগান। সম্প্রতি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির বালুচরে।ছবি: খবরের কাগজ
-->পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নতুন জেগে ওঠা চরভূমিতে আবারও সবুজের দেয়াল গড়ে তুলছে বনবিভাগ। গঙ্গামতি ও কাউয়ার চর সৈকতে লাগানো হচ্ছে ঝাউগাছ। পাশাপাশি আন্ধারমানিক ও সোনাতলা নদীর তীরেও চলছে বনায়ন। বিশেষ করে ছইলা ও কেওড়ার মতো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে সবুজের আচ্ছাদন। এতে উপকূলের বনভূমি সাগরে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কার মধ্যেও নতুন চরভূমিতে গাছ লাগানোর এ উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, কলাপাড়ায় বন সৃজনের ইতিহাস কয়েক দশকের পুরোনো। বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ১৯৫৭ সালে এ অঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম শুরু হয়। ষাটের দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ে কৃষিজমি ও জনবসতিকে লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষার জন্য নদী ও সাগরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাঁধের বাইরের অংশে ব্যাপকভাবে গোলগাছসহ বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান গড়ে তোলা হয়। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলাপাড়ায় ২ হাজার ৭৯৪ একর জমিতে গোলপাতার বাগান, ৬২৭ একরে কড়ই, ৩২০ একরে গেওয়া, ২১০ একরে নারিকেল, ১০৫ একরে সুন্দরী, পশুর ও কেওড়া, ৪৬ একরে সেগুন এবং ৪০ একরে হোগলাপাতার বাগান ছিল। এছাড়া ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ১ হাজার ৯২৯ একর এবং নন-ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগান ছিল ৩১২ একর। পরবর্তী সময়ে সড়কের সংযোগপথ ও বাঁধের বিভিন্ন অংশে স্ট্রিপ বনায়ন এবং শত শত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুয়াকাটা, খাজুরা, ধুলাসার ও গঙ্গামতি এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল এখনো নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সৈকতের বিস্তীর্ণ অংশে গত দুই দশকে সাগরের ভাঙনে ম্যানগ্রোভসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ হারিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বনভূমি পরিণত হয়েছে বালুচরে। তবে গঙ্গামতির দক্ষিণ-পূর্ব দিক এবং রাবনাবাদ মোহনা-সংলগ্ন এলাকায় নতুন চর জেগে ওঠায় সেখানে বনায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বন বিভাগ। এদিকে নদীতীরে জেগে ওঠা চরভূমি যথাযথভাবে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় অনেক এলাকায় গাছ কাটা ও জমি দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, নতুন করে লাগানো ঝাউবাগানটি এখন বেশ সুন্দর দেখায়। তবে চরের বাকি অংশেও এভাবে বাগান করা প্রয়োজন। একই দাবি জানান নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদার।
পরিবেশ সংগঠক নজরুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চল দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে নতুন জেগে ওঠা সব নদীতীরের চরভূমি বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আন্ধারমানিক নদীর তীরের প্লাবনভূমিসহ চর বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর না করায় নদীর তীর দখল করে ইটভাটা, মাছের ঘের ও পুকুর তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগকে আন্তরিক হতে হবে। সংরক্ষিত বনের এলাকায় কৃষিকাজ ও মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে জোয়ারে ভেসে আসা বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে বন গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
বনবিভাগের মহিপুর রেঞ্জের গঙ্গামতি বিট কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে কাউয়ার চরে ৩২ একর জমিতে নতুন ঝাউবাগান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নদীতীরে প্রায় ৫০ একর জমিতে ছইলা ও কেওড়াসহ ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছ এখন বেড়ে উঠছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাত থেকে আট বছর আগে গঙ্গামতির তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ একর এলাকায় বনায়ন করা হয়। এসব গাছের অনেকগুলোই এখন বড় হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বাগানগুলোর একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে চারা রোপণ করা হয়।’
আরও পড়ুন
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক সংস্কারের সপ্তাহ পেরোতেই আবার ভাঙন, আবার মেরামত
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
রংপুর নগরীর ধাপ হাজীপাড়া মোড়ে সড়কের সংস্কারকাজ চলছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->সংস্কারের সপ্তাহ না পেরোতেই আবারও ভাঙছে সড়ক। নতুন বসানো সিমেন্টের ব্লক গুঁড়ো হয়ে গেছে, উঠে গেছে পিচের প্রলেপ, তৈরি হয়েছে গর্ত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরের আগে চার দিন ধরে তড়িঘড়ি করে মেরামত করা হয়েছিল এসব অংশ। কিন্তু সংস্কারের স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের তখন যে সংশয় ছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই তা সামনে এসেছে। এখন একই সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আবার মেরামত করা হচ্ছে। এতে কাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সড়ক বিভাগ অবশ্য এর দায় নিতে নারাজ। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা এমন পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলকে দায়ী করেছেন। বলছেন, এই সড়কের ‘ফাউন্ডেশন খারাপ’।
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের অন্তত দুই কিলোমিটার জায়গায় এমন চিত্র দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর উপলক্ষে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়। পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে সেখানে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে দেওয়া হয় পিচের প্রলেপ।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে আবারও মেরামতের কাজ চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সড়কে সংস্কারের পুনরাবৃত্তি দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুন
সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা এরশাদ উদ্দিনের অভিযোগ, ‘ইচ্ছে করেই সড়ক ভালো করে মেরামত করা হয় না। সড়ক ঠিক করলে ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের আয় হয়। এ জন্য এমনভাবে কাজ করে যেন দ্রুত নষ্ট হয়।’
কেল্লাবন্দ এলাকার ব্যবসায়ী সাজু ইসলাম বলেন, ‘সাত দিন আগেই সড়কের এই অংশের ইটের পাটাতন তুলে সিমেন্টের ব্লক বসানো হয়েছিল। নিম্নমানের কাজের কারণে সেগুলো ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। এখন আবার ঠিক করছে। কিন্তু যে কাজ করা হচ্ছে, এগুলো আবার নষ্ট হবে।’
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার অংশ সংস্কারে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকার কাজ পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে সংস্কার করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে তখন অভিযোগ ওঠে।
এই রাস্তার কাজ করছেন আনারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারি কাজ এমনই হয়। ইঞ্জিনিয়াররা অর্ডার করেন, আমরা কাজ করি। টাকা গেলে সরকারের যাবে, এখানে লোকসান শুধু সাধারণ মানুষের।’
আব্দুল হাদি নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘এই রাস্তায় প্রধানমন্ত্রী আসবে বলে তড়িঘড়ি করে গত ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর কাজ করেছি। এখন আর টিকছে না। আমরা শুধু কাজ করি। রাস্তা টেকসই হচ্ছে কি না, এটা দেখবে সরকার আর ইঞ্জিনিয়াররা।’
রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামাল পাশা বলেন, ‘কাজ চলমান আছে। কাজ করছি, পিচ উঠে যাচ্ছে। বারবার সংস্কার করছি, উঠে যাচ্ছে। ইট ভেঙে যাচ্ছে, ইট তুলে ব্লক দিচ্ছি, সেটিও ভেঙে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলার কারণে এমন হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সড়কের নিচের ফাউন্ডেশন খারাপ, তাই কোনোভাবেই টিকছে না। এটা নতুন করে নির্মাণ ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
