সংবাদ · সাধারণ
দাগনভূঞায় মেয়ের বটির কোপে খুন মা
২৬/১০/২০২৬

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউয়ালিয়া গ্রামের বাদশা মিয়া বাড়িতে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানু বেগমকে (৪২) আটক করে।প্রতিবেশীরা জানান, হোসেন মিয়ার মেয়ে রানু কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণ করছিলেন। সম্প্রতি তিনি স্বামীকেও মারধর করায় তাকে চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার মানসিক চিকিৎসা চলছিল।রবিবারের মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেশীরা জানান, রাতে হঠাৎ ঘরের অন্যান্য লোকজনকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ধারালো বটি নিয়ে মা সেতারা বেগমের ওপর চড়াও হন রানু। তিনি এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকে রানু কক্ষের এদিক-সেদিক দৌড়াতে থাকেন।খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বিছানা থেকে সেতারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বটিসহ মানসিক ভারসাম্যহীন রানুকে আটক করে পুলিশ।স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সরোয়ার পারভেজ জানান, মেয়েটি আগে ভালোই ছিলেন, কিন্তু সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম জানান, 'কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। যেহেতু স্থানীয়রা তার মানসিক সমস্যার কথা বলছেন, বিষয়টি আমরা গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেব।'
মূল প্রতিবেদনে যান ↗