আগামী অর্থবছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের চেহারা বদলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ক্যানসার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে জেলা পর্যায়ে স্থাপন হবে রেডিওথেরাপি মেশিন।
গতকাল সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত ‘মেডিকেল ফিজিকস কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন থেকে প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করতে যাচ্ছি। শুধু উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উঁচু ভবন করা হবে। এখানেই আমরা থেমে থাকিনি। ইউনিয়নের প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার করা হবে। আগের কমিউনিটি ক্লিনিককে আমরা হেলথ ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরিত করব। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক নারী-পুরুষের রোগ-বৃত্তান্ত, জন্ম, ওজন, উচ্চরক্তচাপসহ যা যা রয়েছে, সবকিছু রেকর্ড করে কার্ড দেওয়া হবে। অতএব, আগামী অর্থবছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের চেহারা পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ।
দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে সরকার ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ১৭টি লিনিয়ার এক্সিলারেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিন আনতে যাচ্ছি। এসব মেশিন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাংকার প্রস্তুত ও সংস্কারের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরে আরও বাংকার নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আট বিভাগে রেডিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল তৈরির পাশাপাশি মেডিকেল ফিজিসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। কেননা রেডিওথেরাপির ক্ষেত্রে মেডিকেল ফিজিসিস্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে মুখবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়া। দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা আমাদের সম্পদ। দেশের যেকোনো সংকটে তারা মানুষের সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। তারা দিন-রাত পরিশ্রম করেন এবং মানুষের কল্যাণে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকেন। আমাদের চিকিৎসকরা রোগীদের ভালোবাসেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ওষুধের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের খাবারের মানও উন্নত করা হয়েছে। ফলে রোগীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন রুমি, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তাফা আজিজ সুমন, অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারি প্রমুখ।