ঠিক ২৪ দিনের মধ্যে বক্সা ব্যঘ্র প্রকল্পের বনাঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে অসমের পথে পাড়ি দিয়েছে বিহার থেকে আসা বাঘিনি। তবে কি বক্সার জঙ্গল পছন্দ হয়নি? তাই অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছে? এমনই হাজারও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার বাঘিনির এই গমন নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তিনি এতে কোনও অস্বাভাবিকত্ব দেখছেন না। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রী। জানাচ্ছেন, নিজের বাসস্থান ঠিক করতেই এত ঘোরাঘুরি, যাকে জঙ্গলের ভাষায় বলা হয় ‘এরিয়া ডমিনেশন’। এনিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। বাঘিনি বনদপ্তরের নজরদারিতেই যাতায়াত করছে।
বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ জানাচ্ছেন, ‘‘বাঘিনি তো জানে না কোনটা বাংলার জঙ্গল আর কোনটা অসমের। গোটা বনাঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় সে। তার মূল কারণ, ঠিক কোথায় থিতু হবে, ঘুরে বেড়িয়ে দেখেশুনে সেটাই ঠিক করে। আর পশ্চিমবঙ্গের বক্সা, অসমের রাইমোনা ও মানস বনাঞ্চল একটাই করিডর। তাই গোটা এলাকায় ঘুরে আপাতত বাঘিনি এরিয়া ডমিনেশন করছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে তার উপর। এভাবে বক্সার সীমানা পেরিয়ে যাওয়াটা কোনও সমস্যা নয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, কোথায় সে স্থায়ীভাবে থাকছে, সেটাই।”
বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ জানাচ্ছেন, ‘‘বাঘিনি তো জানে না কোনটা বাংলার জঙ্গল আর কোনটা অসমের। গোটা বনাঞ্চলে ঘুরে বেড়ায় সে। তার মূল কারণ, ঠিক কোথায় থিতু হবে, ঘুরে বেড়িয়ে দেখেশুনে সেটাই ঠিক করে। আর পশ্চিমবঙ্গের বক্সা, অসমের রাইমোনা ও মানস বনাঞ্চল একটাই করিডর। তাই গোটা এলাকায় ঘুরে আপাতত বাঘিনি এরিয়া ডমিনেশন করছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে তার উপর। এভাবে বক্সার সীমানা পেরিয়ে যাওয়াটা কোনও সমস্যা নয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, কোথায় সে স্থায়ীভাবে থাকছে, সেটাই।” তিনি এও জানান, নভেম্বরের শেষে বক্সায় আরও বাঘ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে ৩ বছর বয়সের বাঘিনিকে নিয়ে আসা হয় উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বক্সার জঙ্গলে তাকে ছেড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন পর বক্সায় বাঘেদের স্থায়ী বসবাসের পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকারের তত্বাবধানে। কিন্তু মাত্র ২৪ দিনের মধ্যেই বাঘিনিটি বক্সার সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় অসমের রাইমোনা ব্যঘ্র প্রকল্পের এলাকায়। তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেসব প্রশ্নের জবাবে বনমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এটা অস্বাভাবিক নয়। প্রথমে বাঘ বা বাঘিনি গোটা এলাকা ঘুরে দেখে তারপর নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান বেছে নেয়। সেই কারণেই বক্সার বাঘিনির এই ঘোরাঘুরি।
