ছনি আহমেদ চৌধুরী ॥ লাখাইয়ে আইফোনের জন্য তারেক মিয়া নামে এক যুবককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাহেল মিয়া নামে ওই বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের ছয় দিন পর একটি জলাশয়ের কচুরিপানার নিচ থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি জলাশয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। গ্রেফতারকৃত সাহেল মিয়া ওই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
{“remix_data”:[],”remix_entry_point”:”challenges”,”source_tags”:[],”origin”:”unknown”,”total_draw_time”:0,”total_draw_actions”:0,”layers_used”:0,”brushes_used”:0,”photos_added”:0,”total_editor_actions”:{},”tools_used”:{“ai_enhance”:1,”transform”:1},”is_sticker”:false,”edited_since_last_sticker_save”:true,”containsFTESticker”:false}
পুলিশ জানায়, গত ২১ অক্টোবর বুধবার ভবন নির্মাণের কাজে যোগ দিতে নবীগঞ্জ থেকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে যান তারেক মিয়া ও তাঁর বন্ধু সাহেল মিয়া। এরপর থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শনিবার তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারেক ও সাহেলের পূর্ববর্তী যোগাযোগের তথ্য যাচাই করে পুলিশ। একপর্যায়ে সাহেলের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহেল বিভিন্ন সময়ে তাঁর পরিবারকে ফোন করে কুমিল্লায় কাজ করছেন বলে জানান। তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান নবীগঞ্জের পানিউমদা এলাকায় শনাক্ত হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অবস্থানের অসংগতি দেখা দেওয়ায় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। এরপর থেকে তাঁকে নজরদারিতে রাখা হয়। মঙ্গলবার রাতে চৌশতপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরলে নবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাহেল মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাহেলের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির বরাতে জানা যায়, ফুলবাড়ি গ্রামে সুরের রহমান নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করতেন তারেক ও সাহেল। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা ওই ভবনের নিচে ঘুমিয়ে পড়েন।
গভীর রাতে তারেকের ব্যবহৃত আইফোন ১১-এর প্রতি সাহেলের লোভ হয়। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তারেককে হত্যা করেন সাহেল । পরে মরদেহটি ওই গ্রামের একটি জলাশয়ে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর শুক্রবার লাখাই সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে এক ব্যক্তির কাছে আইফোন ১১টি ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেন সাহেল। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে সাহেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের ওই জলাশয়ে অভিযান চালিয়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
