মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাঁদের বিয়ে হয়। এ দম্পতির ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত মান্নান হোসেন বর্তমানে খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। তিনি নেত্রকোণা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।
মামলার বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ সময় স্বামী তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন এবং বেতনের সম্পূর্ণ টাকা প্রতি মাসে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা দিতে চাপ দিতেন। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে জমি কিনে দেওয়ার পরও তাঁর কাছে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে দুই সন্তানসহ বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে নেত্রকোণা শহরে বসবাস শুরু করেন। গত ৩ জুলাই তাঁর বাসায় গিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট আটপাড়া আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী। আদালত প্রথমে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ দিয়ে আসামিকে জামিন দেন। তবে সমাধান না হওয়ায় গত রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। তবে উভয় পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করানো সম্ভব হয়নি। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আদালত সমাধানের উদ্দেশ্যে আসামিকে একবার জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।
The post নেত্রকোণায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় ইউপি সচিব কারাগারে appeared first on ভোরের চেতনা.
