নাম মনে করতে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাও জ়েদংকে ‘ডিক্টেটর’ বলে ফেলেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এতে তাঁর উপর চটে লাল চিনের মানুষ। তাঁরা বিষয়টিকে দেশের অপমান হিসেবে দেখছেন। এমবাপের উপর চিনারা এতটাই ক্ষুব্ধ যে, বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে ফ্রান্সের অধিনায়ক।
দীর্ঘ দিন ধরে সমাজমাধ্যমে একটি মিম রয়েছে। তাতে চিনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জ়েদংয়ের ছবিতে বসানো রয়েছে এমবাপের মুখ। মিমটি ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তার পর থেকে তাঁরা এমবাপের নাম দেন ‘ডিক্টেটর’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানিয়েছেন, মিমটি তাঁরও পছন্দের। এই পর্যন্ত সমস্যা ছিল না। কিন্তু এর পরই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা একটি বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। এমবাপে বলেন, ‘‘উনি যেন কে একটা। মনে হয় চিনের কোনও ডিক্টেটর।’’
এমবাপের এই মন্তব্যেই রেগে লাল চিনারা। জ়েদংকে ‘ডিক্টেটর’ বলা তাঁদের একদমই পছন্দ হয়নি। তাঁদের মতে, সঠিক তথ্য না জেনে এমবাপে জ়েদংকে কটাক্ষ করেছেন। এতে চিনের জাতীয় স্বার্থে আঘাত লেগেছে এবং দেশের অপমান হয়েছে। চিনাদের প্রশ্ন, জ়েদংয়ের মতো সম্মানীয় ব্যক্তিত্বের ছবিতে কেন এমবাপের মুখ ব্যবহার করা হবে? যদিও এতে ফরাসি তারকার কোনও হাত নেই। তিনি সমস্যায় পড়েছেন জ়েদংকে ‘ডিক্টেটর’ বলে।
ফুটবলার এমবাপে চিনে বেশ জনপ্রিয়। তাঁর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। তাদের কিছু পণ্যের প্রচার দূত এমবাপে। চিনের বেশ কিছু পণ্যের বিজ্ঞাপন করতেন তিনি। কিন্তু দেশের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ায় চিনের অন্তত তিনটি সংস্থা এমবাপের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে। সংস্থাগুলিও এমবাপের এই মন্তব্যে অসন্তুষ্ট এবং ক্ষুব্ধ। সূত্রের খবর, এনার্জি ড্রিঙ্ক ডংপেং, দুগ্ধজাত পণ্য মেংনিউ এবং চিজ উৎপাদনকারী মিল্কগ্রাউন্ড এমবাপের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের চুক্তি বাতিল করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে এমবাপের। যদিও তাঁর ঠিক কত টাকা ক্ষতি হবে, তা জানা যায়নি।
