অনুমোদন ছাড়াই নদীর মাটি কাটছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, ভেকু পুলিশ কনস্টেবলের
মেহেরপুরের গাংনীর কাজলা নদীর পাড় থেকে সরকারি মাটি অপসারণ করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে মেহেরপুরে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের এস্কেভেটর (ভেকু)। মাটি অপসারণের দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম ফিরোজুর রহমান ফিরোজ। তবে মাটি অপসারণের জন্য করা নিলামের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। সোমবার গহরপুর এলাকায় কাজলা নদীর পাড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা মাটি এস্কেভেটর দিয়ে কেটে ট্রাক্টরে বোঝাই করা হচ্ছে। পরে সেসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এ সময় ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। ফিরোজুর রহমান জানিয়েছেন, তার নিজের ভেকু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বলিয়ারপুর পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত কনস্টেবল রবিউলের কাছ থেকে যন্ত্রটি ভাড়া নিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশ সদস্য রবিউলের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে এস্কেভেটর ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এস্কেভেটরচালকের সঙ্গে কথা বলে যন্ত্রটির মালিক হিসেবে কনস্টেবল রবিউলের নাম জানা যায়। ফিরোজুর রহমানও বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার ভেকুটি নষ্ট হয়ে যাওয়াতে রবিউল ভাইয়ের কাছ থেকে ভেকুটি ভাড়া করে এনেছি। আগে মুজিবনগর থানায় ছিল, তখন থেকে তার সঙ্গে পরিচয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, রবিউল মুজিবনগর থানায় কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন এলাকায় এস্কেভেটর ভাড়া দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে তিনি এ ব্যবসা করছেন। কনস্টেবল রবিউলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনার মনে হয় কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। আপনি একটু ভালো করে খোঁজখবর নেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কাজলা নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় নদীর ১৩ দশমিক ৪০০ থেকে ১৩ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার অংশ থেকে উত্তোলিত মাটি বিক্রির জন্য গত ১৫ জুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। ‘লট নং-নিলাম-০৬/২০২৫-২৬’-এর আওতায় ৬ হাজার ৭৮৯ দশমিক ৭৫ ঘনমিটার মাটি অপসারণের জন্য সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এস এম ফিরোজুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়। এ জন্য তার দর ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নিলামের মেয়াদ গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। ফিরোজুর রহমানের দাবি, তিনি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে অনুমোদনের কাগজ হাতে পাবেন বলে আশা করছেন। বৃষ্টি ও নানা জটিলতার কারণে আগে কাজ শুরু করতে পারেননি বলেও জানান তিনি। পরে তিনি এক গণমাধ্যমকর্মীকে আগের নিলামসংক্রান্ত কিছু কাগজ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। পরে আরেক গণমাধ্যমকর্মীকেও একই ধরনের কাগজ পাঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মাটি অপসারণ করতে উপজেলা ও জেলা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি বলেন, জেলা কমিটি অনুমোদন দিলে তবেই তারা মাটি নিতে পারবে। তবে সেটা তারা পেয়েছে কি না, এখন পর্যন্ত আমি জানি না। আমি যতটুকু জানি, কাজটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাটি অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি, সরানো মাটির পরিমাণ পরিমাপ করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার কথা। তবে সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি দেখা যায়নি। এতে মাটি অপসারণের অনুমোদন এবং নিলামের শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম কামাল, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) শান্ত দত্ত ও উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কেউ ফোন ধরেননি। এদিকে সরকারি চাকরিতে থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগের বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তারপর আপনার সঙ্গে কথা বলছি। তবে আপনার আনা অভিযোগের বিষয়টি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই চাকরিবিধি অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নজরুল বর্ষের চিত্রাঙ্কনে বাজিমাত, এবার জাতীয় পর্যায়ের অপেক্ষায় খুদে পার্থ আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র পার্থ দাস। প্রাথমিক পর্যায়ের ‘ক’ গ্রুপে বিদ্যালয়, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে এখন জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের অপেক্ষায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় পার্থ দাস তার অসাধারণ সৃজনশীলতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপে নিজ বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে সে। এরপর উপজেলা পর্যায়েও প্রথম স্থান অধিকার করে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র গ্রহণ করে। জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। সর্বশেষ বিভাগীয় পর্যায়ে বরিশাল বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে পার্থ দাস। এ পর্যায়েও বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ তার হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। রবিবার সকালে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন (অতিরিক্ত সচিব)বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি, বরিশাল রেঞ্জ মো. জুলফিকার আলী হায়দার ও জেলা প্রশাসক ও জেলা মেজিস্ট্রেট, বরিশাল মো. মামুন খন্দকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন (যুগ্ম সচিব)অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) বরিশাল মো. আহসান হাবিব। সারাদিন অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খুদে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়েও শিশুরা ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত পার্থ দাসের ধারাবাহিক এ সাফল্যে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বয়সেই বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করায় পার্থের প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল অর্জন করে নিজের বিদ্যালয়, উপজেলা, জেলাও বরিশাল বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করবে এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর। তাদের বিশ্বাস, যথাযথ উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পার্থ দাস ভবিষ্যতে একজন প্রতিভাবান চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

লালমনিরহাটে অস্তিত্বহীন বিদ্যালয়ের নামে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, হাতিয়ে নেওয়ার দাবি কোটি টাকা
নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র। নেই নিজস্ব জমি, নেই অবকাঠামো, নেই কোনো শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র কাগজপত্রেই বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব। অথচ বিদ্যালয়টিকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। ঘটনার মূল নায়ক নর্থবেঙ্গল ডিজাবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন। জানা যায়, বিশেষায়িত বিদ্যালয় সমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল সংক্রান্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধিতা শাখার গত ১৯ মে তারিখের একটি পত্র লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত ২৮ জুন তারিখে গৃহীত হয়। উক্ত পত্রে নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র নামে লালমনিরহাট জেলায় ২টি বিদ্যালয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রথমটি নন-এনডিডি, ক্রমিক নং- ৫৮২, ট্র্যাকিং কোড নং- ২০২০১০০০৩৪১ এবং দ্বিতীয়টি এনডিডি, ক্রমিক নং- ১৪৪৮, ট্র্যাকিং কোড নং- ২০২০২০০০৩২৫। সরেজমিন তথ্য সংগ্রহকালীন নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্র নামে লালমনিরহাট জেলায় কোনো বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজপত্রে এ নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাল দেখানো হয়েছে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ এবং শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেখানো হয়েছে ১৪ জনকে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে ৩৯ জনের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। ৩৯ জনের অধিকাংশই পৃথক পৃথক ভাবে জানেন যে, তিনি নিয়োগ প্রাপ্ত উক্ত ১৪ জনের একজন। জালিয়াতি ও প্রতারণার এ নজীরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন নর্থবেঙ্গল ডিজাবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন। সুভাষ চন্দ্র বর্মন শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে বিশ্বজিৎ কুমার রায়, কোহিনুর বেগম, জগদীশ চন্দ্র বর্মন, সুমন কুমার রায়, মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা, ইতিমালা রায়, মোছাঃ আঞ্জুমান আরা বেগম, মোছাঃ মুনিরা শামা, মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ আসাদুজ্জামান, কাঞ্চন বিশ্বাস, সুজন কুমার রায়, মোঃ কামরুজ্জামান বাবু, মোঃ আনিছুর রহমান, মায়া রানী, মোঃ মোরশেদ কামাল, সঞ্জিত বর্মন, নিমাই কান্তি রায়, বিধান চন্দ্র রায়, অঞ্জলী রানী, অর্পনা বিশ্বাস, তাসমিন আক্তার, শামীমা আক্তার, প্রিয়াংকা রায়, নিমাই চন্দ্র, রোকসানা আক্তার, মোঃ আরিফুউজ্জামান, মায়া রানী, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রী সোহাগ চন্দ্র, শ্রী মতি তপতী রানী, মোঃ মাকসুদার রহমান বাবু, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ আব্দুল মতিন, স্বরস্বতী রানী রায়, সবুজ চন্দ্র, জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং আদুরী রানী রায় -এর নিকট থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তারা সুভাষ চন্দ্র বর্মনের কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রই পাননি, এমনকি তাদের অনেকেই জানেন না যে তাদেরকে কোন বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত কোহিনূর বেগম বলেন আমি নর্থ বেঙ্গল একিভূত শিক্ষা কেন্দ্রে আছি। আপনার প্রতিষ্ঠান কোথায় এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপাতত নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছি। তথ্য সংগ্রহকালে তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ নিজেকে নর্থবেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক/কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেখানে নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষাকেন্দ্রের কোন অস্তিত্বই নেই সেখানে সুভাষ চন্দ্র বর্মনের আশ্বাসে এমপিওভূক্তির প্রহর গুনছেন জাল কাগজে ভুয়া নিয়োগ প্রাপ্ত এসব শিক্ষক/কর্মচারীরা। আর নর্থবেঙ্গল একিভূত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্র বর্মন বলেন,আমি এই প্রতিষ্ঠানটি করতে চেষ্টা করেছি। পরে তা বাদ দিয়ে দিয়েছি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন কর্তৃক দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লালমনিরহাট সদর মনোনীতা দাস জানান, এ ধরনের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব পাইনি।

টামেক হাসপাতালে ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এবং রোগীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘স্বচ্ছ অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টামেক হাসপাতালের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো রোগী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক ও যত্নশীল হতে হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ (টামেক) হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষের চিকিৎসায় জেনারেল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই প্রধান ভরসা। ঢাকার সমমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় মানুষ এ হাসপাতালের ওপর আস্থা রাখছে- যা অত্যন্ত ইতিবাচক। এই আস্থা ধরে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং যার যার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান জনবল সংকট দ্রুত দূর করার আশ্বাস দেন তিনি। উচ্চপর্যায়ের এই সমন্বয় সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফ সংকট দূরীকরণ, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার মানোন্নয়ন, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও খাবারের মান বৃদ্ধি এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতাল থেকে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূল, প্রধান ফটকের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, ফরেনসিক বিভাগ চালু এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্যে হাসপাতালের সার্বিক চিত্র ও উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনা আকারে তুলে ধরেন পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস। টামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফখরুল আমিন বাদলের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু এবং জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ড্যাব) সভাপতি ডা. আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মৌচাক এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি দিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বেতন-ভাতা ও বোনাস বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকরা স্থানীয় সাদমা টেক্সটাইল নামের একটি কারখানায় ভাঙচুর চালান। পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয়মুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যান তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশও আসছে।

