খুলনায় গুলি করে জাপান টোব্যাকো সিগারেট কোম্পানির এক কর্মীর ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গুলিবিদ্ধ সালমান (২৫) বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরের নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে জাপান টোব্যাকোর ডিলার পয়েন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সালমান ওই ডিলার পয়েন্টের অফিস সহকারী। তার বাবার নাম জাহাঙ্গীর। তিনি নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে করে ৫ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে সালমানকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে তার পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে সহকর্মীরা সালমানকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
খবর পেয়ে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি লোকমান হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চিকিৎসকেরা সালমানকে আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন। ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
খুলনায় ছিনতাইয়েও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায়ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা বেড়েছে। গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মো. সোহেল শেখ (৩৪) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আহত সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ অক্টোবর রাতে খুলনা মহানগরের পশ্চিম টুটপাড়া আমতলা মোড় এলাকায় গুলি করে এক যুবকের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি। একই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের তুলনায় মামলার সংখ্যা কম।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক চোরাকারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ রয়েছে।
