দীর্ঘ আট ঘণ্টার নিলাম শেষে ডি-থ্রি ট্রফির জন্য নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়েছে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজি। জাতীয় দলের তারকাদের দলে ভেড়ানোর লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকেনি কেউই। তবে লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, মুমিনুল হকদের দলে নিয়ে বাড়তি আলোচনায় ওয়ালটন। অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটারদেরও দলে টেনেছে তারা। সব মিলিয়ে শিরোপার লক্ষ্যে ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
তিন সংস্করণের ঘরোয়া ক্রিকেটকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন আয়োজন ডি-থ্রি ট্রফি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে শুরু হয় খেলোয়াড় নিলাম। ভারতের অভিজ্ঞ উপস্থাপক ও নিলামকারী চারু শর্মার প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় ২৬৯ জন ক্রিকেটারকে নিলামে তোলা হয়। সেখান থেকে প্রতিটি দল ২২ জন করে ক্রিকেটার বেছে নেয়। আগে থেকে নির্ধারিত একজন আইকন ক্রিকেটারসহ ছয় দলের স্কোয়াডে এখন ২৩ জন করে খেলোয়াড়।
নিলামে ওয়ালটনের সবচেয়ে বড় সংযোজন জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁকে দলে নিতে খরচ হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্ট। এছাড়া লিটন দাসকে ১ কোটি ৫৫ লাখ এবং মুমিনুল হককে ৮০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ওয়ালটনের আইকন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ। জাতীয় দলে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা থাকা মিরাজ ও লিটনকে ঘিরে দলটির নেতৃত্ব পরিকল্পনা নিয়েও রয়েছে আগ্রহ।
অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণদেরও দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ইকবাল হোসেন ইমনকে ৬৬ লাখ, আরিফুল ইসলামকে ৬২ লাখ এবং সামিউন বশির রাতুলকে ৫৪ লাখ পয়েন্টে দলে ভিড়িয়েছে তারা। এছাড়া নাসুম আহমেদকে ৬৯ লাখ, মার্শাল আইয়ুবকে ৩৬ লাখ, রনি তালুকদারকে ৩০ লাখ, হাবিবুর রহমান সোহান ও রেজাউল ইসলাম রাজাকে ৩২ লাখ পয়েন্টে কিনেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
দল গঠন নিয়ে ওয়ালটনের কোচ আবদুর রাজ্জাকের ব্যাখ্যা, নিলামের কাঠামো অনুযায়ী তারকা ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “সিস্টেমটাই তো এরকম ছিল যে ফার্স্ট যাদের নাম আছে, ওরা সবাই তারকা প্লেয়ার। তো আমাদের নিতেই হবে, সব টিমকেই নিতে হবে। সিস্টেমটাই এরকম ছিল। তো প্রত্যেকটা টিমই আমার কাছে মনে হয়েছে যে তারকা নিয়েই দল করেছে। তো আমরাও আসলে সেটার ব্যতিক্রম হইনি।”
নিলামে ওয়ালটনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিন খান। দল গঠন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি জানান, শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ওয়ালটন।
আমিন খান বলেন, “সবারই প্রত্যাশা থাকে তার টিমটা জিতুক। আমারও প্রত্যাশা আছে ওয়ালটন টিমটা অবশ্যই জিতুক। কারণ টিম আজকে যেভাবে গঠন করা হয়েছে, প্লেয়ার যাদেরকে নেওয়া হয়েছে এবং সেই সঙ্গে আমাদের বেস্ট কোচ আছে আমাদের সঙ্গে। আমরা আশা করি, আমরা ভালো খেলা উপহার দেব, অবশ্যই জিতব।”
দলে মিরাজ ও লিটনের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা থাকা ক্রিকেটার থাকলেও এখনো নির্দিষ্ট কাউকে অধিনায়ক হিসেবে চূড়ান্ত করেনি ওয়ালটন। এ বিষয়ে আবদুর রাজ্জাক বলেন, “যখন যাকে প্রয়োজন হবে, আমাদের টিমে সেই ক্যাপ্টেন থাকবে। এটা আমাদের কোনো পার্টিকুলার প্ল্যান নাই এখনো পর্যন্ত।”
কোচিংয়ে নিজের নতুন পথচলা নিয়েও কথা বলেছেন সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক। কোচ হিসেবে কাজ করাটা উপভোগ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কোচ হিসেবে কাজ করাই আমার জন্য আনন্দের। আসলে ক্রিকেটের মধ্যে থাকা যায়, সারাক্ষণ মাঠের কাছাকাছি থাকা যায়, প্লেয়ারদের সঙ্গে থাকা যায়, এটা আমি খুবই এনজয় করি, করছি সো ফার।”
তবে ব্যক্তিগত ভালো লাগার চেয়ে দায়িত্ব পালনে সাফল্যকেই বড় করে দেখছেন রাজ্জাক। তার ভাষায়, “এখন আসলে তার থেকে বড় ব্যাপার হচ্ছে যে কাজটা ভালোভাবে করতে হবে। বিকজ মানে শুধু আমার কাছে ভালো লাগলে হবে না, যাতে ভালোভাবে কাজটা করতে পারি, আমি সেটাই চেষ্টা করব।”
