অনলাইন ডেস্ক । চট্টগ্রামনিউজ.কম
চিকিৎসা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ, আর সেখান থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব—ডা. শাহাদাত হোসেনের পথচলায় রয়েছে একাধিক অধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক, রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন শাহাদাত হোসেন। একই প্রতিষ্ঠানে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ে রেসিডেন্সি প্রোগ্রামও সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি গড়ার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে রেজাউল করিম ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী মামলা করেন শাহাদাত।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে। ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় সচিবালয়ে তাঁকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। এভাবেই নির্বাচনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর মেয়রের দায়িত্বে আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ডা. শাহাদাত হোসেনের পরিচয় তাই শুধু একজন চিকিৎসক কিংবা দলীয় নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগরীর মেয়র নির্বাচন, নির্বাচনী ফল নিয়ে আইনি লড়াই এবং আদালতের রায়ের পর নগরভবনে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনাও।
চিকিৎসা পেশা থেকে রাজনীতির মাঠ, আর সেখান থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব—ডা. শাহাদাত হোসেনের পথচলায় রয়েছে একাধিক অধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক, রাজনীতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন শাহাদাত হোসেন। একই প্রতিষ্ঠানে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ে রেসিডেন্সি প্রোগ্রামও সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি গড়ার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে রেজাউল করিম ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী মামলা করেন শাহাদাত।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে। ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় সচিবালয়ে তাঁকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। এভাবেই নির্বাচনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর মেয়রের দায়িত্বে আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ডা. শাহাদাত হোসেনের পরিচয় তাই শুধু একজন চিকিৎসক কিংবা দলীয় নেতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নগরীর মেয়র নির্বাচন, নির্বাচনী ফল নিয়ে আইনি লড়াই এবং আদালতের রায়ের পর নগরভবনে দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনাও।
আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়া বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে এবার একই করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন তিনি। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন এ বিষয়ে আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাঁকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে শাহাদাত হোসেন দাবি করেছিলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে রেজাউল করিম ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট এবং শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান।
নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাতের করা মামলার রায় দেন। রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। নির্বাচনের প্রায় তিন বছর নয় মাস পর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া শাহাদাত এবার সরকারের নিয়োগে একই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র —ডাঃ শাহাদাত হোসেন। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় জড়িত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাথে। ১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয় তাঁকে!
তার ঠিক ২বছর পর, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় তাঁকে। শিক্ষাজীবন শেষ হবার পর শাহাদাত হোসেন ১৯৯১ সালে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর সঙ্গে। এরপরই তিনি নজরে আসেন তারেক রহমানের! ২০০৯ সালে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাঁকে!
১৯৬৬ সালের ২ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহাদাত হোসেন
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রে/প্তার করে কারাগারে পাঠানো হয় চিকিৎসক শাহাদাতকে। কারাগারে থেকে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে!
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক রাজনৈতিক মা/ম/লায় আ/সামী করা হয় তাঁকে। মাসের অধিকাংশ দিনই মামলা হাজিরা দিতে দৌড়াতে হতো আদালত পাড়ায়! দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর আইনি লড়াইয়ের পর ৩ নভেম্বর ২০২৪। চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন!
লেখক: নুরুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ ।
