আজকাল ওয়েবডেস্ক: নজিরবিহীন। লক্ষ্মী পুজোয় কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জির বাড়িতে গিয়ে নাড়ু খেয়ে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সুদীপের বাড়িতে আসার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, তৃণমূল বিধায়ক (এখনও মমতাপন্থী বলেই পরিচিত) নয়না ব্য়ানার্জি তাঁকে চারটে নাড়ু দিলেনও তিনি দু'টি খেয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের আমন্ত্রণ রক্ষা করায় আপ্লুত এই রাজনীতিক দম্পতি।
সত্যিই কী নিছক সৌজন্য, নাকি সুদীপ-নয়নার বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণ রক্ষার নেপথ্যে রয়েছে কোনও রাজনৈতিক কৌশল? আসল তথ্য ফাঁস করেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁদের লড়াই ছিল সুদীপের বিরুদ্ধে, সেই সুদীপের বাড়িতে লক্ষ্মী পুজোর নাড়ু খেলেন মুখ্যমন্ত্রী, এটা কি রাজনৈতিক সৌজন্য? জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, "দেখুন লক্ষ্মী পুজো হয়েছে, আমরা দুর্গাপুজো বা পুজোর সময় কে কি পার্টিতে আছে, কোথায় আছে জানি না, কেউ যদি আন্তরিকতার সঙ্গে ডাকে, সেখানে আমরা পুজোতে যাই এবং বহু লোকের সঙ্গে দেখাও হয় আর এটাই তো পুজো। সমস্ত ভেদাভেদ মুছে দিয়ে কেউ যদি আমাকে ডাকতে পারে, আমার যেতে আপত্তি নেই। আর সেটাই হয়েছে এই স্তরে আজকে যারা পশ্চিম বাংলায় এত বছর রাজনীতি করেছেন, এক সময় একসঙ্গে করেছেন সবাই। কোন মতামত মতান্তর হতেই পারে। আজ সময় এসছে বাংলায় একত্রিত হয়ে সবাই বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বাংলার বিকাশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আমার মনে হয় সেটাই শুরু হয়েছে, এটা একটাভাল দিক।"
সুদীপ ব্যানার্জির দাবি, আসন্ন পুরো ভোটে বিজেপিকে সমর্থন করবে এনসিপিআই। ১০০ শতাংশ সমর্থনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, "খুব ভাল কথা, ওই দিল্লিতেও মাননীয় মোদি জির উন্নয়নের কাজে বহু পার্টি একত্রিত হয়েছে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পশ্চিমবঙ্গও আমরা সেই ধারাটা নিয়ে আসতে চাই, তাহলেই ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। এবং সারা দেশের যে উন্নয়ন তার লাভও বাংলায় পেতে চাই। তো আমরা চাই বাংলায় যারা যারা রাজনীতি করছেন তারাও নিজেদের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন বাংলা কোথায় যাওয়া উচিত ছিল কোথায় এসেছে। আজ সামনে সময়ের ডাকে সবাই এক হয়ে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার আছে।"
রবিবার সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জির বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আগে প্রত্যেকবার ডাকতেন। কোনওবার আসিনি। এটা সম্পূর্ণ সৌজন্য বিনিময়। তিনি রাজ্যের একজন প্রবীণ নেতা। আমার বাবার সমসাময়িক। আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে একমাস আগে ডেকেছেন। গতকাল একটা মেসেজ করেছেন। মিষ্টি এনেছিলাম। তুলসী দিয়ে মাকে দিলাম। মা গ্রহণ করলেন। আর আমাকে বৌদি নারকেলের নাড়ু খাওয়াল। চারটে নাড়ু দিয়েছিল। দু'টো খেয়েছি।”
