উখিয়ায় নলকূপ খনন করতে গিয়ে গ্যাসের সন্ধান, জ্বলল আগুন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি বাড়িতে গভীর নলকূপের পাইপ বসানোর সময় হঠাৎ গ্যাস নির্গত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে ইনানী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে।
আগুনের উত্তাপে বিদ্যুতের ৩৩ কেভি মূল সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরিন ড্রাইভ এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল বলেন, ‘বসতবাড়িতে নলকূপ খনন করার সময় হঠাৎ মাটির গভীর থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে। এখনো আগুন জ্বলতে থাকায় আশপাশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। আগুনের প্রকৃত উৎস ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ’
উখিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছেন, আগুনের উত্তাপে ৩৩ কেভি মূল সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিদ্যুতের লাইন পরীক্ষা করে পুনরায় চালু করা হবে।
রিদুয়ানুল হক সোহাগ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ভারতে ৪ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরল বাংলাদেশি দম্পতি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ভারতে চার বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশি এক দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান।
এর আগে, সোমবার রাত ৯টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের নোম্যান্সল্যান্ডে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
কারাভোগ শেষে দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিরা হলেন- আল আমিন শেখ (৩২), তার স্ত্রী জোসনা আক্তার (২৭) ও তাদের শিশু সন্তান আরমান শেখ (২)। তারা বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ধরাদোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ভারত ফেরতে এক দম্পতি ও তাদের শিশু সন্তানকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
যশোর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি ম্যানেজার মুহিত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে এই দম্পতি সাত বছর আগে অবৈধভাবে ভারতের কেরালায় গিয়েছিলেন। সেখানে আল আমিন শেখ শ্রমিকের ও তার স্ত্রী জোসনা আক্তার বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। পরে সেদেশের পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালত তাদের চার বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা দায়িত্ব নিয়ে তাদের শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভের পারমিটের মাধ্যমে সোমবার রাতে তারা দেশে ফেরেন। ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নজরুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
আশুলিয়ায় মদ্যপ অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২১ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সাভারের আশুলিয়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মদ্যপ অবস্থায় নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক দাবি করেছেন, ঘটনাটি ছয় মাস আগের এবং তিনি মদ্যপ ছিলেন না।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সানোয়ার মাস্টার। তিনি আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া মোল্লা মার্কেট এলাকার সালেহা ইদ্রিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, হলুদ দেয়ালঘেরা একটি কক্ষে স্যান্ডো গেঞ্জি পরা অবস্থায় রয়েছেন সানোয়ার মাস্টার। তার সামনে একটি টেবিলে মদের বোতল রাখা। পাশে লুঙ্গি ও ফতুয়া পরা এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে তাকে নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণের খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের কয়েকজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছ থেকে নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা পায়। তাই একজন শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উদ্বেগজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মাস্টার মুঠোফোনে বলেন, ‘এটা কে করেছে, আমি জানি না। ওই বাসার মধ্যে একটা অফিস। সেখানে আমি আর এক মুরুব্বি এমনিই নাচছিলাম। পরে দেখি, কে যেন সামনে একটা বোতল রেখে ভিডিও করেছে। এটা ছয় মাস আগের ঘটনা।’
মদ্যপ অবস্থায় নাচার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘মুরুব্বি আমার দাদা হন। আমরা শয়তানি করে নাচছিলাম। কে যেন বোতল সামনে রেখে ভিডিও করেছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে তিনি আগে জানতেন না। সাংবাদিকের কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনেছেন।’
আলমগীর হোসেন আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠে থাকলে অবশ্যই আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তদন্তে ভিডিওটির সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আহমদ সোহান/আজহার/
আরও পড়ুন
মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ এএম
হাসপাতালে নিহত আব্দুল্লাহ শেখের পরিবারের আহাজারি।ছবি: খবরের কাগজ
-->মাগুরার বেলনগর এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) নামের যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. মিজানুর রহমান (৪০) নামে অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার ৩ নম্বর কুচুন্দী ইউনিয়নের বেলনগর হাঁস খামারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল্লাহ শেখ বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। আহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ শেখ মোটরসাইকেল নিয়ে মধুখালী বাজার থেকে নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে মিজানুর রহমান মোটরসাইকেলে করে মাগুরা থেকে ওয়াপদা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বেলনগর হাঁস খামারের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিজানুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে। নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
রামনগর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে। নিহতের মরদেহ মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কাসেমুর রহমান/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গভীর সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৩টায় ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৮ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে। সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকতে পারে। তাই জেলেদের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে।
তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি/
