নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও কিশোর ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী হারেজ আলীকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ ছয় বছর আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারকাজ শেষে আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, বিচারপ্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হারেজ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ওলহরি (দুর্গাপুর) এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। ঘটনার সময় তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার ভোলাইল গেদ্দারবাজার এলাকায় শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে নিজ ভাড়া বাসায় পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামী হারেজের সঙ্গে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩৫)-এর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হারেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা এবং তাদের ১৬ বছরের ছেলে সোহাগকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের সময় মনোয়ারার দুই হাত, গাল, বুক ও শরীরের ডান পাশে এবং ছেলে সোহাগের পেটে গুরুতর জখম করা হয়। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর রাতেই ঘাতক হারেজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরদিন ৯ জুলাই নিহত মনোয়ারার ভাই মজিবুর রহমান ওরফে মজিদ এবং নিহতের মেয়ে বিথির অভিযোগের ভিত্তিতে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিসহ অভিযুক্ত হারেজকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বজনদের হত্যার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা হারেজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে আদালত মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হারেজকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, রায়ের পর আদালতের পুলিশি প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত হারেজকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
