দৃষ্টিশক্তি হারানো মানেই হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়া নয়। চোখের সামনে সোজা রেখা বাঁকা দেখা, পরিচিত মানুষের মুখ ঝাপসা হয়ে যাওয়া কিংবা পড়তে অসুবিধা হওয়াও হতে পারে দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রাথমিক লক্ষণ। এসব পরিবর্তনকে অনেকেই চশমার পাওয়ার পরিবর্তনের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। অথচ সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্ধত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসে পালন করা হয় অন্ধত্ব সচেতনতা মাস। এ উপলক্ষে দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিভিন্ন কারণ এবং চোখের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্ধত্ব মানেই কি পুরোপুরি অন্ধকার?
চিকিৎসকদের মতে, অনেকে মনে করেন অন্ধত্ব মানেই হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়া। বাস্তবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও প্রথমে পাশের দিকের দৃশ্য দেখার ক্ষমতা কমে যায়, আবার কারও চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে। অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি গুরুতর পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত কোনো লক্ষণও বোঝা যায় না।
গ্লুকোমার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পার্শ্বদৃষ্টি সংকুচিত হতে থাকে। মস্তিষ্ক দৃষ্টির ঘাটতি পূরণ করে নেওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি সহজে সমস্যা বুঝতে পারেন না। ফলে দরজার চৌকাঠে ধাক্কা খাওয়া কিংবা সিঁড়ির ধাপ দেখতে না পাওয়ার মতো ঘটনাকে অনেকে অসাবধানতা বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগে রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বছরের পর বছর দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক মনে হতে পারে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না
রেটিনার যে অংশটি স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করে, তার নাম ম্যাকুলা। এই অংশ আক্রান্ত হলে সোজা রেখা ঢেউখেলানো দেখা, মানুষের মুখ ঝাপসা লাগা, পড়তে অসুবিধা হওয়া কিংবা দৃষ্টির কেন্দ্রস্থলে কালো বা ফাঁকা অংশ দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকরা তিনটি লক্ষণকে জরুরি সতর্কসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো হঠাৎ আলোর ঝলকানি দেখা, চোখের সামনে নতুন করে অনেক ভাসমান দাগ দেখা এবং দৃষ্টির ওপর পর্দার মতো ছায়া নেমে আসা। এসব লক্ষণ রেটিনায় ছিঁড়ে যাওয়া বা রেটিনা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
চিকিৎসকের পরামর্শ, বাড়িতে মাঝেমধ্যে একটি চোখ ঢেকে অন্য চোখ দিয়ে দরজার ফ্রেম বা লেখার পৃষ্ঠা দেখে নিতে পারেন। কোনো রেখা বাঁকা, দৃশ্য অস্পষ্ট কিংবা কোনো অংশ অনুপস্থিত মনে হচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। একইভাবে অন্য চোখও পরীক্ষা করুন।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর তা ফিরিয়ে আনা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন। তাই চোখের ছোট পরিবর্তনও অবহেলা না করে পরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তিতে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে সেদিনই জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস