ভারত ছাড়ার নোটিস পাঠানো হয়েছিল আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানকে। এর পাল্টা বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা ইমরান। সেই আবেদনের শুনানি হবে মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, বম্বে হাই কোর্টে। ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর জারি করা ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানান অভিনেতা। এফআরআরও-র পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁর আইনি লড়াই এখনও আদালতে বিচারাধীন।
দুই পক্ষই অতিরিক্ত সময় চাওয়ায় ৪৩ বছর বয়সি অভিনেতার মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। মঙ্গলবার মামলাটি শুনবে আদালত।
গত সপ্তাহে বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান। ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া’ নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। ওই নোটিসে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর এই নোটিস জারি করা হয়।
ইমরান আমেরিকার নাগরিক এবং ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডের অধিকারী। নোটিসটিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন তিনি। আদালতের কাছে নোটিসটি খারিজ করার পাশাপাশি, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানিয়েছেন ইমরান। মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালীন সরকার যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করে, সেই সুরক্ষাও চেয়েছেন তিনি।
আবেদনে ইমরান আদালতকে অনুরোধ করেছেন, তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা, তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (এলওসি) জারি করা, কালো তালিকাভুক্ত করা কিংবা তাঁর ওসিআই-সংক্রান্ত মর্যাদা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে বিরত রাখা হোক।
নোটিস জারির জন্য যে আইনি ভিত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, কোন নির্দিষ্ট আইনি বিধান তিনি লঙ্ঘন করেছেন, তা নোটিসে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। আগাম তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিস বা নিজের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ না দিয়েই কেন এই নির্দেশ জারি করা হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
ইমরানের আবেদনে বলা হয়েছে, নোটিসে তাঁকে আমেরিকার নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তাঁর ওসিআই কার্ডধারী হওয়ার বিষয়টি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের ওসিআই মর্যাদার মাধ্যমে ভারতে বসবাসের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। ওসিআই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত শর্ত তিনি লঙ্ঘন করেননি বলেও দাবি করেছেন ইমরান। তাঁর আবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় জমায়েতের উপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা স্থানীয় পুলিশের নির্দেশের ভিত্তিতে। পাশাপাশি, যে স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছিল, সেটি কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত কোনও সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ এলাকা ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আবেদনে ইমরান আরও জানিয়েছেন, প্রতিবাদ চলাকালীন তিনি পুলিশের ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করেননি। তাঁকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হলে তিনি নিজের গাড়ির দিকে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে দাবি অভিনেতার। ওই দিন সন্ধ্যাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
ইমরানের আরও যুক্তি, কোনও প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেওয়া মানেই বিদেশি নাগরিক বা ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য প্রযোজ্য শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। তদন্তাধীন একটি এফআইআর-কে ভারত ছাড়ার নির্দেশ জারির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ার অভিযোগের পরেই এই নোটিস জারি করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আইন লঙ্ঘন করেছেন ইমরান। সোমাইয়ার অভিযোগটি পুলিশের তরফে এফআরআরও-র কাছে পাঠানো হয়। তার পরেই অভিনেতাকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস জারি করে ওই দফতর।
