বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে ১০ হাজার মিটার অবৈধ ইলিশ জাল বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকারের সরঞ্জাম এবং প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা। পরে নিষিদ্ধ জাল ও শিকারের সরঞ্জাম জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত ইলিশ মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় দেওয়া হয়৷
রবিবার (২৫ অক্টোবর) যমুনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। সারা দিনব্যাপী এ অভিযানটি পরিচালনা করেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ। অভিযানকালে যমুনায় অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জাল ও বৈদ্যুতিক শক প্রয়োগের সরঞ্জাম জব্দ করেন কর্মকর্তারা। এসব সরঞ্জাম জব্দ করার পর উপজেলার কালিতলা ঘাটে জনসম্মুখে সব ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা প্রায় ১৫ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় তিনটি এতিমখানায় বিতরন করে দেওয়া হয়।
স্হানীয়রা এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মা-ইলিশের প্রজননকাল নির্বিঘ্ন রাখতে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করা জরুরি। এ সময়ে নিষিদ্ধ জাল ও বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে মাছ ধরলে ইলিশের বংশ বিস্তার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীর অন্যান্য জলজ প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শুধু অভিযান একদিন পরিচালনা নয়, নদীতে নিয়মিত নজরদারি এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান সরকার, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য পরিচালকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক সেলিম আক্তার, বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শারমিন আক্তার, সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন এবং বগুড়া সদর উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক। এ ছাড়া সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের সদস্য, মৎস্য দপ্তরের কর্মচারী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অভিযানে অংশ নেন।
যমুনার মৎস্য সম্পদ রক্ষা, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রজনন মৌসুমে অবৈধ শিকার ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
