ঢাকা: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা প্রায় নিয়মিতভাবেই শীর্ষস্থানগুলোর কাছাকাছি অবস্থান করছে। ১৬৯ স্কোর নিয়ে অস্বাস্থ্যকর বায়ুর চাদরে ঢাকা এই নগরীর বাতাস আজ মানবদেহের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বায়ুদূষণ কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের জীবনের ওপর নেমে আসা এক নীরব মহাদুর্যোগ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ শহরের মধ্যে আজ পঞ্চম। ১৬৯ স্কোর নিয়ে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেস্কে (আইকিউএয়ার) ঢাকা শহরের বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, এদিন বিশ্বের বায়ুদূষণ শহরগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। যার বায়ুমান স্কোর ২০৩। বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
এছাড়া ১৯৭ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ১৮৩ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের আরেক শহর করাছি রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে, ১৭২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমান স্কোর ১৬৯।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। আর ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে মানুষের বহুমুখী কর্মকাণ্ড। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হলো অপরিকল্পিত ইটভাটা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং যত্রতত্র নির্মাণাধীন সাইটের উন্মুক্ত ধুলাবালি। শীতকাল এলেই ইটভাটাগুলোর কর্মতপরতা এবং শুষ্ক মৌসুমে যত্রতত্র রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে বস্তুকণা বা পিএম টু পয়েন্ট ফাইভের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষের চোখে হয়তো সবসময় ধূলিকণা ধরা পড়ে না, কিন্তু এই সূক্ষ্ম কণাগুলো নিঃশ্বাসের সঙ্গে অনায়াসে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তে মিশে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং গাছপালা কেটে কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি করার ফলে প্রকৃতির নিজস্ব ফিল্টার করার ক্ষমতাও আজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা এই দূষণের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। শিশুরা যখন দূষিত বাতাসে বড় হয়, তখন তাদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তারা আজীবন নানা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগে।
বিশেসজ্ঞরা বলছেন এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। সবার আগে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
