সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা ইউনিটের নেতারা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এড. আকরাম আলীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব এড. মো. নুরুল আমিনকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তার অপসারণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এড. মিজানুর রহমান পিন্টু, এড. ইব্রাহিম, এড. শফিকুল ইসলাম, এড. রফিকুল ইসলাম খোকন, এড. হেলালুজ্জামান, এড. জাকির, এড. শাহাজান, এড. জগলু, এড. একরাম, এড. জাহিদুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি সি মামলা নং ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এড. আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তার গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আলহাজ্ব এড. মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তার কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রাখা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে এবং এডিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের ৮০ হাজার আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। তারা অভিযোগ করেন, এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া এড. আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তার অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ রয়েছে। তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও বক্তব্য দেন তারা।
এড. মো. নুরুল আমিন একটি অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, অর্পিত মামলা নং ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। তার নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ মে। তার দাবি, পূর্ববর্তী আইনজীবী এড. প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ে আপিল করেননি। এ কারণে তামাদি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২ বছর তামাদির মধ্যে পূর্বের আইনজীবী এড. প্রবীর মন্ডল আপিল করেনি। অর্পিত আইনে আপিলের ক্ষেত্রে ১৮ ধারায় বলা হয়েছে ৪ এর ২ ধারা মতে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল মামলা করতে হয়। তামাদি আইনে ৫ ধারা মতে কোনো গ্রহণযোগ্য নহে। সেক্ষেত্রে তামাদি পিটিশন দিয়ে কোনো লাভ নাই। সে কারণে তামাদি দোষ করলে এড. প্রবীর কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাকে (এড. নুরুল আমিন) নোটিশ করে অবগত করাননি।
মানববন্ধন থেকে এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাসকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা জানান, তাদের দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান।
খুলনা গেজেট/এনএম
