রূপচর্চা কেবল মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সারা শরীরেরই যত্ন পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আর পায়ের পাতা তার মধ্যে অন্যতম। সবচেয়ে বেশি অবহেলিত অঙ্গ, কিন্তু চড়া রোদের অত্যাচার পায়ের পাতা দু’টিকেও সহ্য করতে হয়। রোদে অসমান হয়ে যায় পায়ের পাতার রং। শেষমেশ পায়ের দিকে চোখ পড়লে আপনার নিজেরই ভাল লাগবে না। পুজোয় রাস্তায় ঘোরাঘুরির পর এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। শুধু ট্যান নয়, গোড়ালি ও পায়ের আঙুলের আশপাশের ত্বকও অনেক সময় শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। তাই যত্ন নিন পায়ের পাতারও।
তবে মনে রাখবেন, ট্যান ধীরে ধীরে কমে। এক দিনে ত্বকের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনার কোনও নিশ্চিত ঘরোয়া উপায় নেই। তাই নিয়মিত পরিচর্যার একটি রুটিন তৈরি করা উচিত।
১. ঈষদুষ্ণ জলে পা ডোবানো: প্রথমে একটি পাত্রে ঈষদুষ্ণ জল নিন। তাতে সামান্য মৃদু তরল সাবান মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পায়ের ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হতে এবং শুষ্ক, শক্ত অংশ নরম হতে সাহায্য করবে। খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না। তাতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা বাড়তে পারে।
২. স্ক্রাব করা: পা ভিজিয়ে নেওয়ার পর মৃদু স্ক্রাবার দিয়ে পায়ের উপরিভাগ পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ও নখের আশপাশে জমে থাকা ময়লা সরিয়ে ফেলুন। পায়ের ত্বকে মৃত কোষ জমে থাকলে, স্ক্রাবারের মাধ্যমে তা দূর হতে পারে। ত্বকে ট্যান রয়েছে বলে জোরে ঘষাঘষি করবেন না। অতিরিক্ত ঘর্ষণে ত্বকে জ্বালা হতে পারে এবং কালচে দাগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
৩. ঝামা পাথর ব্যবহার: গোড়ালির ত্বক শক্ত হয়ে গেলে ঝামা পাথর বা পিউমিক স্টোন ব্যবহার করা যেতে পারে। পা ভিজিয়ে ত্বক নরম করার পর শক্ত অংশে খুব আলতো করে ঘষুন। এক বারেই সব মৃত কোষ তুলে ফেলার চেষ্টা করবেন না। এতে ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে। ডায়াবিটিস বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঝামা পাথর ব্যবহার করবেন না।
৪. লেবু-চিনির স্ক্রাব প্রয়োগ: লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে পায়ে ঘষতে পারেন আলতো করে। তবে দেখে নিতে হবে, লেবুর রসের অ্যাসিডিক ভাব ত্বকে জ্বালা না তৈরি করে। এতে ট্যান নয়, ময়লা পরিষ্কার, মৃত কোষ সরে গিয়ে পায়ের পাতাকে উজ্জ্বল দেখায়।
৫. ঘরোয়া মাস্ক ব্যবহার: দই, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পায়ের পাতার ত্বকে লাগাতে পারেন। ১৫-২০ মিনিট রেখে তুলে ফেলুন হালকা গরম জল দিয়ে। নিয়মিত ব্যবহার করলে এতেও ধীরে ধীরে রোদেপোড়ার প্রভাব কমতে শুরু করবে।
৬. ময়েশ্চারাইজ়ার মাখা: পা পরিষ্কার করার পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে জল মুছে নিন। ত্বক সামান্য স্যাঁতসেঁতে থাকতেই ময়শ্চারাইজ়ার লাগালে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সুবিধা হয়। পায়ের পাতার উপরিভাগ ও গোড়ালিতে ভাল করে লাগান। তবে আঙুলের ফাঁকে অতিরিক্ত ক্রিম জমিয়ে রাখবেন না, কারণ সেখানে আর্দ্রতা জমলে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৭. সানস্ক্রিন প্রয়োগ: রোদ থেকে কেবল মুখ নয়, পায়ের পাতারও সুরক্ষা প্রয়োজন। তাই উপযুক্ত সানস্ক্রিন নিয়মিত মেখে বাইরে বেরোতে হবে। যাতে সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে না পারে এবং পায়ের পাতার রং অসমান না দেখায়।
