কর্মীদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর ও অবসরের পর পুনর্নিয়োগের বয়স ৭০ বছর করছে সিঙ্গাপুর। ২০২৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে প্রবীণ কর্মীদের কর্মজীবনে থাকার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য আরো নমনীয় কর্মপরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ পরিবর্তন আগামী বছর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবসরের বয়স ৬৪ বছর ও পুনর্নিয়োগের বয়স ৬৯ বছর। খবর সি স্ট্রেটস টাইমস।
প্রবীণ কর্মীদের কর্মসংস্থান বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্ক গ্রুপ গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, যেসব প্রবীণ কর্মী কাজ চালিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত আরো নিশ্চয়তা তৈরি করবে।
প্রবীণ কর্মীদের কর্মসংস্থান নীতি পর্যালোচনা করে ছয়টি সুপারিশ দিয়েছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গঠিত এ ওয়ার্ক গ্রুপ। এসব সুপারিশ গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। এর লক্ষ্য হলো প্রবীণদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা, কর্মবিরতির পর ফের কাজে ফেরার সুযোগ তৈরি করা এবং কম মজুরিতে কাজ করা বয়স্ক কর্মীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানো।
প্রবীণ কর্মীদের জন্য নমনীয় কর্ম ব্যবস্থা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ওয়ার্ক গ্রুপ। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বাসা থেকে কাজ করা কিংবা নিজের সুবিধামতো কর্মঘণ্টা নির্ধারণের সুযোগ তুলনামূলকভাবে প্রচলিত। তবে কাজের চাপ ও দায়িত্ব কমবেশি করার সুযোগ এখনো সীমিত।
এ ধরনের ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘ফ্লেক্সি-লোড’। এর আওতায় কর্মীরা নিজদের সামর্থ্য ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের পরিমাণ কমাতে বা বাড়াতে পারবেন। কাজের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা হবে বেতনও।
সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির ৫০-৬৪ বছর বয়সী পূর্ণকালীন কর্মীদের ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশের জন্য পছন্দমতো কর্মঘণ্টা বেছে নেয়ার সুযোগ ছিল। বাসা বা অন্য স্থান থেকে কাজের সুযোগ পেয়েছেন ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে কাজের পরিমাণ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মী।
প্রবীণ কর্মীদের কর্মজীবনে ধরে রাখতে কর সুবিধা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে ৫৫-৫৯ বছর বয়সী কর্মীদের সর্বোচ্চ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার এবং ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের সর্বোচ্চ ৮ হাজার ডলার করছাড়ের সুযোগ রয়েছে। অবসরের নির্ধারিত বয়স ও পুনর্নিয়োগের সময় পেরিয়েও যারা কাজ করবেন, তাদের জন্য এ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এতে তাদের হাতে থাকা আয়ের পরিমাণ বাড়বে।
এছাড়া পুনর্নিয়োগের বয়সে পৌঁছানোর পর কোনো প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পদ না পেলে যোগ্য কর্মীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা দেয়ার নিয়ম রয়েছে সিঙ্গাপুরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ সহায়তার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা হালনাগাদ করার সুপারিশ করেছে ওয়ার্কগ্রুপ।
