টিআইএন (ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) নেওয়ার পর অনেকেরই একপর্যায়ে এটি আর প্রয়োজন হয় না। তবে টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়।
ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভুলবশত একাধিক টিআইএন তৈরি হওয়া, করদাতার মৃত্যু কিংবা টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকার মতো পরিস্থিতিতে বাতিলের আবেদন বিবেচিত হতে পারে। তবে আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।
টিআইএন বাতিলের জন্য প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে (nbr.gov.bd) সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হতে পারে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রমাণপত্র এবং কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করবে। অনুমোদন পাওয়ার আগে টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
টিআইএন বাতিল হলেও আগের কোনো বকেয়া কর বা আইনগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয় না। একইভাবে, টিআইএন থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে একইভাবে কর দিতে হয় না। আয়, সম্পদ ও প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়।
তাই শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
The post আর প্রয়োজন নেই টিন সার্টিফিকেট? যেভাবে বাতিলের আবেদন করবেন appeared first on ভোরের চেতনা.
