কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের পরবর্তীতে গর্ভধারণ ও প্রসবের পর নবজাতক বিক্রির ঘটনায় চৌদ্দমাম মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ভিকটিম নারী(২১) বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ মামলা ও নবজাতক বিক্রির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার মামলা দায়ের করে।
ধর্ষণ মামলার আসামীরা হলেন- উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে আবির হোসেন (১৯), আমির হোসেনের স্ত্রী জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), প্রয়াত আনসার আলীর ছেলে হাজী মোস্তফা (৬৫)। এদের মধ্যে জোবেদা আক্তার ও নজরুল ইসলামকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুর রহমান টুকু বাদী হয়ে দায়ের করা মানব পাচার মামলায় আসামীরা হলেন- কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেনের স্ত্রী জোবেদা আক্তার সানজিদা, প্রয়াত তাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম মনির, প্রয়াত আনসার আলী মোল্লার ছেলে হাজী মোস্তফা মোল্লা, নাজমুল হুদা ড্রাইভারের স্ত্রী ও প্রসব করানো প্রাইম হসপিটালের নার্স স্বপ্না বেগম, একই ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো: রিপন, প্রাইম হসপিটালের দুই ম্যানেজার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ষাটশলা গ্রামের কাজী মোজাহেরুল ইসলামের ছেলে কাজী বাছির। তাদের মধ্যে নার্স স্বপ্না বেগম ও রিপনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তথ্যটি নিশ্চিত করে সোমবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আরিফ হোছাইন বলেন, আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিক্রি করা নবজাতক উদ্ধার করে মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, খাদিজা আক্তার ও আবির হোসেন প্রতিবেশী। দুইজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর বিয়ের প্রলোভনে খাদিজার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই ঘটনায় খাদিজা গর্ভবতী হয়ে গেলে ৯ মাস পূর্বে আবিরকে জানালে তাকে ভ্রুণ নষ্ট করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আবিবের মা বাবা ও স্থানীয় সালিশদাররা খাদিজাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। এই সুযোগে আবিরকে তারা অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ বেসরকারি প্রাইম হসপিটালে খাদিজা পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
এরপর ওই হসপিটালের নার্স স্বপ্লা, দুই ম্যানেজার কাজী বাছির ও নাজিম উদ্দিনের পরষ্পর যোগসাজশে হসপিটালের বিল পরিশোধ করতে নবজাতককে ৫৫ হাজার টাকায় একই ইউনিয়নের হিঙ্গুলা গ্রামের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন। পুলিশ ও ডিবির অভিযানিক দল ২৬ অক্টোবর ভোররাতে অভিযান চালিয়ে হিঙ্গুলা গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
