প্লাস্টিক সংগ্রহে মানুষের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দেশে পুনর্ব্যবহারের বড় শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ খাতে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের আওতায় আনতে এ সমঝোতা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানায় প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে প্রবেশের উদ্যোগটি বেশ সাড়া ফেলেছে। এ পর্যন্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়ে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছে। উদ্যোগটি দেখে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ ধরনের প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত না থাকায় কাজটি এগিয়ে নেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘সবাই যদি সত্যি প্লাস্টিকগুলো সংগ্রহ করে, তাহলে আমার মনে হয়, এটা ভবিষ্যতে একটা বড় শিল্প হতে পারে।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। চিড়িয়াখানায় সাধারণ প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চিড়িয়াখানায় জমা হওয়া প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও ইপসার মধ্যে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। প্রাথমিকভাবে সমঝোতার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। ইপসার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী।
উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানায় প্রবেশের জন্য অনেক শিক্ষার্থী হয়তো ৭০ টাকা দিতে পারবে। কিন্তু প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে পরিবেশ ও সমাজের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তাদের ভাবার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই সমঝোতা স্মারকটির পরিসর হয়তো ছোট, কিন্তু এর প্রভাব অনেক বেশি।’
প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার ক্ষেত্রে বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পাটসহ প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
ইপসার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানার বাইরেও এ ধরনের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্লাস্টিক সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে।
চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতির প্রাণী আনার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক।
শিক্ষার্থীদের চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুরা সেখানে এসে পশুপাখি দেখুক এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হোক। কিছুটা সময় মুঠোফোনের পর্দা থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের আনন্দ উপভোগ করুক। এ বার্তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান তিনি।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও ইপসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
