আজকাল ওয়েবডেস্ক: একাধিক বেসরকারি স্কুলকে সরকারি অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার নামে, বিপুল টাকা নেওয়ার অভিযোগ। আর্থিক দুর্নীতির দায়ে, বিজয় সরকার গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। হইচই তামিলনাড়ূ জুড়ে। সোমবার চেন্নাই পুলিশের সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ুর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের জমানার স্কুল শিক্ষামন্ত্রী আনবিল মহেশ পোয়ামোঝিকে। গ্রেপ্তারির ঘটনাকে ডিএমকে বিজয়ের সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে।
সরকারি অনুমোদনের বিনিময়ে বেসরকারি স্কুলগুলির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগের মামলায়, মাদ্রাজ হাইকোর্ট প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ানন এই আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালতেও চেন্নাই সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ যুক্তি দেয়, তদন্তকারীরা প্রাক্তন মন্ত্রীর জড়িত থাকার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। তা৬কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছিল সিসিবি।
সিসিবি'র তথ্য অনুযায়ী, বি টি আরাসা কুমার নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি অনথিভুক্ত সংগঠন, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পোয়ামোঝির দায়িত্বকালে, বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ। এই অর্থ সংগ্রহের সময় তাদের স্থায়ী স্বীকৃতি প্রদান, স্কুলের মানোন্নয়ন এবং ভবন নির্মাণের অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে তথ্য, তদন্তকারীরা আদালতকে জানিয়েছেন, ১৭৭টিরও বেশি স্কুল কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৭.২৬ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গেছে।
পুলিশের অভিযোগ, সে রাজ্যের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে ২০২৪ সালে এই সংগঠনটি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিলেন এবং ওই বছরের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে ওই সংগঠনের আয়োজকদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, স্কুলগুলি থেকে সংগৃহীত অর্থ দলীয় তহবিল হিসেবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হতো।
স্কুল-অনুমোদন মামলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের হয়, তারপরেই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী আবেদন জানিয়েছিলেন আগাম জামিনের। এর আগেও, সেপ্টেম্বরমাসে তাঁকে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে তথ্য, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে আড়াইশোর বেশি প্রশ্ন করা হয়েছিল। সোমবার মাদ্রাজ হাইকোর্ট ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় পোয়ামাঝিকে।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
