ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য নতুন রুটে চলাচল শুরু করছে আন্তনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস। সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে ট্রেনটির নতুন রুট ও সময়সূচি কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে মহানগর এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রার উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকেই এই রুটের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে পরদিন সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পথে ট্রেনটি রাত ৩টায় চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে আবার কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করবে।
ফেরার পথে মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের ফলে ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও ফেনী স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুবিধা পাবেন। এসব স্টেশনের যাত্রীদের আগে কক্সবাজারগামী বিরতিহীন ট্রেন ব্যবহার করে সরাসরি গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। ফলে নতুন পরিষেবাটি চালু হলে মধ্যবর্তী এলাকার যাত্রীদের দীর্ঘ পথের ভ্রমণ আরও সুবিধাজনক হবে।
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় পথে বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীরা এসব ট্রেনে ওঠানামা করতে পারেন না। মহানগর এক্সপ্রেসের নতুন রুট সেই সীমাবদ্ধতা কিছুটা দূর করবে। এতে কক্সবাজারগামী সাধারণ যাত্রী ও পর্যটক—উভয়ের জন্যই রেলপথে যাতায়াতের বিকল্প বাড়বে।
নতুন রুটে মহানগর এক্সপ্রেসে মোট ১৬টি কোচ থাকবে। ট্রেনটিতে আসনসংখ্যা হবে ৭০৬ থেকে ৭৩৬টি। প্রতি সপ্তাহের রবিবার ট্রেনটির সাপ্তাহিক বিরতি থাকবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেনটি চলাচল শুরু করলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন এই রেল পরিষেবার ফলে কক্সবাজার ভ্রমণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রেলওয়ের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যাত্রার আগে যাত্রীদের টিকিটে উল্লেখিত সময়সূচি ও প্রযোজ্য নিয়মাবলি যাচাই করে নেওয়া উচিত।
-20261026032518.jpg&w=1440&q=75)