ক্রীড়া প্রতিবেদক
এটা কোন স্বপ্ন নয়, একদম সত্যি- টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ অবস্থান তাদের। সমীকরণ মেলানোটা কঠিন। আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠেয় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে; তাতে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে কিছুটা টালমাটাল টাইগারদের চারপাশ! আচানক ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে বাদ দিয়েছে বিসিবি। নির্বাচক কমিটিতেও পরিবর্তন আনার গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে। এ ছাড়া গত রবিবার শান্ত, লিটন, মুশফিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ক্রিকেটপাড়ায় এগুলো নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। দলের চারপাশে এমন অস্থিরতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না ফিল সিমন্স। বাংলাদেশের প্রধান কোচ জানান, তার পূর্ণ মনোযোগ ২২ গজের ময়দানেই। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘বাইরে কী ঘটছে, সেটা নয়; দল হিসেবে প্রস্তুতির জন্য আমরা কী করছি, সেটাই আসল। আমাদের মনোযোগ সেদিকেই।’ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি সভাপতির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিমন্সও। সেদিনের আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং ক্রিকেটকে আরও কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেসব নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে হলে বাকি ছয় টেস্টের অন্তত চারটিতে জিততে হবে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি, সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি, ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুইটি টেস্ট রয়েছে। প্রতিপক্ষ বিবেচনায় লক্ষ্যটা কঠিন হলেও আশার পালে ভেলা ভাসাচ্ছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে খেলার লক্ষ্য ও আকাক্সক্ষা সবার মধ্যে আছে। আমার মনে হয়, সবাই টেস্ট ম্যাচ নিয়েই খুব মনোযোগী। সবাই নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছে।’ দুই ম্যাচের টেস্ট খেলতে বেশ আগেভাগেই বাংলাদেশে চলে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তারা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। খেলেছেন প্রস্তুতি ম্যাচও। সেদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে কিছুটা ঘাটতি কি থেকে যাচ্ছে না? ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যস্ততা শেষ করে বাংলাদেশ দলের সবাই একসঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিন দিন। তবে এটাকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না সিমন্স; বরং নিজেদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্টির কথাই বলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধান কোচ বলেন, ‘এখানে যে খেলোয়াড়রা ছিল, তারা তাদের কাজগুলো ঠিকভাবেই করেছে। আমাদের হাতে আরও দুই দিন (২৬, ২৭) সময় আছে। এই সময়ে সাদা বলের ক্রিকেট খেলে আসা খেলোয়াড়রা দলের সঙ্গে যোগ দেবে, সবাই একসঙ্গে অনুশীলন করে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে। দলের প্রস্তুতিতে আমি খুশি।’
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার কোনো সুযোগ নেই। ১২ ম্যাচে ২টি জয় তাদের। টেবিলের আটে ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই তারা এবারের চক্র শেষ করবে। এ সিরিজ জিতলে আটের উপরে ওঠার সুযোগ থাকবে। দলটির প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘সামনের দুটি টেস্ট আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলে জেতার জন্য। আমার মনে হয়, দুদলের জন্যই অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজের ওপর। আমাদের বর্তমান অবস্থা ও প্রতিপক্ষকে বিবেচনা করলে, এ সিরিজে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।’
