কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের শরীফপুর হাওরে নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের সংযোগস্থলের মাটি বর্ষায় সরে গেছে। এতে ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। দ্রুত মাটি ভরাট ও সংযোগস্থল মেরামত করা না হলে চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোত ও ভাঙনের কারণে ব্রিজের দুই পাশের সংযোগস্থল থেকে মাটি সরে যায়। এতে সেখানে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে ওই অংশ দিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কৃষি উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও সার পরিবহন এবং হাওর থেকে মাছ আনা-নেওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। এ ছাড়া শত শত গবাদিপশুকে মাঠে ঘাস খাওয়াতে নিতে নদী সাঁতরে পার হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কৃষক হারিছ মিয়া বলেন, এই এলাকায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি রয়েছে। কৃষি উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও সার আনা-নেওয়া করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। গত বছর সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে নিজেরা চাঁদা তুলে ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামত করেছিলাম। বর্তমান ইউপি সদস্যকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এবার কোনো বরাদ্দ আসবে কি না। তিনি না করে দিয়েছেন। মানুষের যে কী কষ্ট হচ্ছে! দ্রুত মাটি ভরাট করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মজনু মিয়া বলেন, বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর থেকে ব্রিজটি দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। কৃষকদের গরু মাঠে ঘাস খেতে নিতে হয়। কিন্তু ব্রিজের সংযোগস্থলে মাটি না থাকায় নদী সাঁতরে গরু পার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, ব্রিজের সংযোগস্থলে বড় ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় কৃষক ও সংবাদকর্মী হারুনূর রশিদ বলেন, জমিতে চাষাবাদ করেছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় সার নিয়ে যেতে পারছি না। ব্রিজের এক পাশে গাড়িতে করে কৃষি উপকরণ এনে অন্য পাশে মাথায় করে জমিতে নিতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।
এ অবস্থায় ব্রিজের সংযোগস্থলে দ্রুত মাটি ভরাট, প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
