ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট শুরু হয়।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে প্রায় ৭৩ লাখ ইসরায়েলি ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে ইসরায়েলের ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও রয়েছেন।
বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরায়েলি ভোট দিতে পারছেন না। কারণ ইসরায়েলে অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার (অ্যাবসেন্টি ব্যালট) কোনো সাধারণ ব্যবস্থা নেই। নির্বাচনের দিন ভোটারদের সশরীরে দেশটিতে উপস্থিত থাকতে হয়। তবে কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা এর ব্যতিক্রম। তাঁরা ইসরায়েলি মিশনগুলোতে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনে আলোচিত বিষয়:
এই নির্বাচনী চক্রে ইসরায়েলিরা বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমস্যার মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে:
৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা: তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা তদন্তে সরকার এখনো কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। সেদিন হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। আল জাজিরার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ শুরু করে। এতে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি: সমর্থকদের মতে, এই অব্যাহতি পূর্ণকালীন তোরাহ অধ্যয়নকে সুরক্ষা দেয়। সমালোচকদের যুক্তি, এতে অন্য সবার ওপর সামরিক পরিষেবার অন্যায্য বোঝা চাপে।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার: সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব করতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উদ্যোগ গাজা যুদ্ধের আগে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। বিষয়টি এখনো গভীর বিভাজনের কারণ। সমালোচকেরা একে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি মনে করেন। নেতানিয়াহুর সমর্থকদের যুক্তি, আদালত তার এখতিয়ার অতিক্রম করেছে।
যুদ্ধ ও নিরাপত্তা: জনগণ স্থিতিশীলতা চায়, তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তারা সতর্ক। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়: উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সীমিত মজুরির ওপর প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে, যা সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
বিআলো/শিলি