শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি।
মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন জার্মান ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার।
বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের শোভন কাজ, কল্যাণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার, সামাজিক সংলাপ ও দক্ষতা উন্নয়ন সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ অনুসরণ করেছে। সংশোধিত আইন কার্যকর করতে শ্রম বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগও চলছে।
এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের জুন থেকে তৈরি পোশাক খাতে পরীক্ষামূলকভাবে এ স্কিম চালু রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে মাসিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। বর্তমানে স্কিমটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), চামড়া ও জুতা খাতেও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
স্কিমটি জাতীয় পর্যায়ে চালু করতে উপযুক্ত অর্থায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
ড. বার্বেল কফলার শ্রম আইন বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরও বলেন, শোভন কাজ ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক মডেল টেকসই হতে পারে না। জার্মানির ভোক্তারাও পোশাক তৈরিতে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয়ে সচেতন।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
