জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে স্থানীয় প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে কাজ শেষ করার মাত্র এক সপ্তাহ না যেতেই উপজেলার গলাকাটা-আংড়া সড়কের কার্পেটিং পায়ে ঘষা দিলেই উঠে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক পাকাকরণের এই বেহাল দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও শিডিউল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচবিবি উপজেলার গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজ পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লিনা এন্টারপ্রাইজ’। এলজিইডির কার্যাদেশ অনুযায়ী তারা সম্প্রতি ওই সড়কের কাজ শেষ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর সময় থেকেই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল।
দাউদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল ও মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কার্পেটিংয়ের আগে নিয়মমতো ভালো ইট-বালু না দিয়ে মাটি ও রাবিশ ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমানে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সামান্য আঘাতেই বা পায়ের ঠেলায় পিচ-পাথর উঠে আসছে। এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা দ্রুত সড়কটি পুনরায় সংস্কার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে ফেসবুকে সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাওয়ার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর গত রোববার বিকালে ঠিকাদার প্রায় শতাধিক লোক নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।
এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ ব্যাপারে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট জানান, নিম্নমানের কাজের জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলা হয় এবং খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন।
আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আরেফিন চৌধুরী (আবু) জানান, সড়কটির কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে বলে তিনিও স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিনা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মাহবুব ইলাহী দাবি করেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সড়কের কার্পেটিংয়ের পর বিটুমিন পুরোপুরি জমতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, সময় পার হলে এ সমস্যা থাকত না।
অন্যদিকে পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান দাবি করেন, কাজটি সঠিক, টেকসই ও মানসম্মতভাবেই করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেগুলো প্রচার করা হচ্ছে, তা কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তুলে ধরছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।