ফটিকছড়িতে অবৈধ ইটভাটা চালুর চেষ্টার প্রতিবাদে কৃষকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের শস্যভাণ্ডারখ্যাত ফটিকছড়ি বিলে অবৈধ ‘এনএসবি’ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
রবিবার দুপুরে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন সড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শত শত কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মানববন্ধনটি একপর্যায়ে গণবিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পরে একটি প্রতিবাদ মিছিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত ফসলি জমি, বসতবাড়ি, পরিবেশ ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিতর্কিত ওই ইটভাটা বন্ধের জোরালো দাবি জানান।
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অভিযোগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা মামলার প্রেক্ষিতে প্রশাসন এই ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইন অমান্য করে বর্তমানে আবার এটি চালুর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভাটাটির চারপাশে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে। এখানে ইটভাটা চালু হলে অন্তত ৫০০ একর তিন ফসলি জমি, গাছপালা, জীববৈচিত্র্য ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং চার হাজারের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। প্রতিবাদ সভায় হারুয়ালছড়ি খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, স্থানীয় কৃষক আলাউদ্দিন ও নুরুল হকসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জনস্বার্থে অবৈধ ইট ভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটায় ইতিমধ্যে ইট উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, আদালতের নির্দেশনা ও ‘বেলা’-র মামলার প্রেক্ষিতে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন ফয়সলও অবৈধ এই ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এই বিভাগের আরো খবর






