কালবেলা · দেশ
খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ
10/27/2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে দুজনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে পলাতক বিবেচনায় সরকারি খরচে (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউটর মঈনুল করিম ট্রাইব্যুনালকে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় মোট আসামি ৩৮ জন। তাদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি ৩৪ জনকে আত্মসমর্পণে গত ১ অক্টোবর দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এসব আসামির হাজিরার জন্য গতকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ করেননি। এ কারণে তাদের পলাতক বিবেচনায় সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন জানান তিনি। এছাড়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য সময় চান।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিন মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
খায়রুজ্জামান ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন- বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির ও শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
এর আগে, ১৮ আগস্ট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৩০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লব চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। একইসময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনজুম সাকিব।
এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও বহু মানুষকে আহত করা হয়। শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗