অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ: প্লেট পর্বে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ কী, কীভাবে মিলবে চ্যাম্পিয়ন
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে গ্রুপপর্বের পাঁচ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সামনে এখন প্লেট স্টেজের লড়াই। আজারবাইজানের বাকুতে চলমান এই প্রতিযোগিতায় সেশেলসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচের পরই শেষ হয়ে যাচ্ছে না কিশোরদের বিশ্বমঞ্চের অভিযান। বরং পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ভর করবে সেশেলসের বিপক্ষে ফলের ওপর।
ফিফার প্রকাশিত সর্বশেষ সূচি অনুযায়ী, সেশেলসের বিপক্ষে ম্যাচটি টায়ার-ই এর অংশ। এই টুর্নামেন্টের নিয়ম প্রচলিত বিশ্বকাপের মতো নয়। এখানে সব দলকে শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছয়টি স্তরে ভাগ করে প্রতিটি স্তরের আলাদা বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। তবে পুরো প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হবে শুধু টায়ার-এ এর বিজয়ী দল।
গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ ছিল ছয় দলের ‘জি’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েলস, পর্তুগাল, বুরুন্ডি, ইন্দোনেশিয়া ও ফিজি। পাঁচ ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও দুই হারে বাংলাদেশের অর্জন ৫ পয়েন্ট। ফিফার সূচিতে দলটির পরবর্তী ম্যাচ রাখা হয়েছে টায়ার-ইতে, যা গ্রুপ পর্বের ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত স্তরগুলোর একটি।
সেশেলসের পর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে?
ফিফার ২৮ সেশেলসের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। পরের রাউন্ডে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে সিঙ্গাপুর ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করে। পরের ম্যাচ খেলবে ২৯ অক্টোবর। বাংলাদেশ সেশেলসকে হারালে খেলবে সিঙ্গাপুর-ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে। বাংলাদেশ হারলে খেলবে ওই ম্যাচের পরাজিত দলের বিপক্ষে।
এরপরও টায়ার-ইতে বাংলাদেশের আরও ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে। পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ভর করবে আগের ম্যাচগুলোর ফলের ওপর। ফলে সেশেলসের বিপক্ষে জয় পেলে শুধু একটি ম্যাচ জেতাই নয়, পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
টুর্নামেন্টের নিয়ম কী?
ফিফার এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, গ্রুপপর্ব শেষে কোনো দলই সরাসরি বাদ পড়বে না। প্রচলিত বিশ্বকাপের মতো শুধু নকআউট পর্বে ওঠা বা বিদায় নেওয়ার হিসাব এখানে নেই। বরং সব দলকে প্রতিযোগিতার শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
গ্রুপপর্ব: দলগুলো নিজেদের গ্রুপে রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে চার থেকে পাঁচটি ম্যাচ খেলে। গ্রুপে অবস্থানের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের স্তর নির্ধারিত হয়।
ছয়টি টায়ার: গ্রুপের প্রথম দলগুলো টায়ার-এ, দ্বিতীয় দলগুলো টায়ার-বি, এভাবে ক্রমান্বয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলগুলো টায়ার-এফে যায়। বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হয়েছে টায়ার-ই।
টায়ারভিত্তিক লড়াই: প্রতিটি স্তরে দলগুলো নিজেদের ফল অনুযায়ী পরবর্তী প্রতিপক্ষ পায়। বিজয়ীদের সঙ্গে বিজয়ীদের এবং পরাজিতদের সঙ্গে পরাজিতদের খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি ম্যাচ হারলেই কোনো দলের প্রতিযোগিতা শেষ হবে না।
শেষ দিনের নির্ধারণ: ৩০ অক্টোবর ছয়টি টায়ারের চূড়ান্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি স্তরের নিজস্ব বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
ম্যাচের নিয়মেও রয়েছে কিছু ব্যতিক্রম। প্রতিটি দল একসঙ্গে আটজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলবে, ম্যাচ হবে ২০ মিনিটের দুই অর্ধে। খেলোয়াড় উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে বদলি খেলোয়াড় নামানোর ক্ষেত্রে রয়েছে নমনীয়তা।
চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে কীভাবে?
টায়ার-এ থেকে যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, তারাই জিতবে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের মূল শিরোপা। বাকি পাঁচটি টায়ারেও আলাদা বিজয়ী থাকবে। অর্থাৎ টায়ার-ইতে বাংলাদেশের সাফল্য মানে প্লেট স্টেজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ, তবে তা মূল বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সমান নয়।
বাংলাদেশের সামনে তাই এখন লক্ষ্য সেশেলসকে হারিয়ে পরের ধাপে এগিয়ে যাওয়া। গ্রুপপর্বে পাঁচ ম্যাচে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টায়ার-ইতে যতটা সম্ভব ভালো অবস্থানে শেষ করার সুযোগ রয়েছে কিশোরদের। ফিফার এই অভিনব প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আরেকটি মঞ্চ।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
