সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে ১৮ মাস ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর এই ফলাফল দেশটির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
রোববারের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, “এটি পরিষ্কার যে আমরা নির্বাচনে হেরে গেছি, স্টুডেন্ট লিস্ট জয় পেয়েছে।” তাঁর এই ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁরা উল্লাস, স্লোগান ও নাচের মধ্য দিয়ে বিজয় উদযাপন করেন।
২০১৪ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট অথবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন জাতীয়তাবাদী নেতা ভুচিচ। তবে ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী আচরণের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঘোষণা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
আদালতে যাওয়ার পথে রাহুল গান্ধীর গাড়িবহরে দুর্ঘটনা, আহত কয়েকজন!

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে ২০২৪ সালে সার্বিয়ার নভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর। শিক্ষার্থীরা ওই দুর্ঘটনার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকে দায়ী করে জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলের বিষয়ে ভুচিচ জানান, পার্লামেন্টের ২৫০টি আসনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাঁর দল ‘সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি’ বা এসএনএস পেতে পারে ১০৫টি আসন।
স্টুডেন্ট লিস্টের সদরদপ্তরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ। তিনি বলেন, জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। বিজয় উদযাপনের পাশাপাশি আগামী দিন থেকে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ শুরু করার কথাও বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের এই বিজয়কে সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের এই দেশে নির্বাচনের ফলাফল ইউরোপের অন্যান্য ছাত্র আন্দোলনেও প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষার মান, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও সুযোগের অভাব নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের বিক্ষোভের মধ্যে সার্বিয়ার এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের জোটকে নির্বাচনে জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ও কর্মকর্তারা।
সূত্র: রয়টার্স।
