তৎকালীন প্রচলিত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয়, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা তৈরি হয়। এজন্য উক্ত আন্দোলন সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,সহনশীলতা, আইনের শাসন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে লগি-বৈঠা আন্দোলন একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। রাজনৈতিক কর্মসূচি যখন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সীমা অতিক্রম করে সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে পড়ে।গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ নিরসনের মাধ্যম হওয়া উচিত সংলাপ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা গণতন্ত্রের সহাবস্থান ও সহনশীলতার চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।২০০৬ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা গুরুতর সংকটের মুখে পড়ে।রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো কর্মীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আচরণ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা।
একই সঙ্গে সংঘটিত সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ইতিহাসের আলোচিত ঘটনাগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে তথ্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বিচারপতি কে এম হাসানের সম্ভাব্য নিয়োগের বিরোধিতায় আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন ১৪ দল লগি-বৈঠার কর্মসূচি ঘোষণা করে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও লাঠিসোটা নিয়ে পল্টনের রাজপথে জড়ো হন। এদিকে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সাথে তাদের তীব্র ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। পল্টনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই জামায়াত ও শিবিরের কর্মীসহ বেশ ৬ জন নিহত হন এবং পরবর্তী দেশব্যাপী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে)।আহত হন সহস্রাধিক মানুষ।এই ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলেও ২০০৯ সালে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এজন্য ঘটনা তৎকালীন প্রচলিত নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেয় যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা তৈরি হয়। এজন্য উক্ত আন্দোলন সামগ্রিক রাজনৈতিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
