বিনোদন ডেস্ক ||
ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। জীবনটা নিজের শর্তে উপভোগ করেন। ঠোঁটকাটা স্বভাব, সমাজের বাঁকা দৃষ্টিকে পাত্তা না দেওয়ায় বছর জুড়েই আলোচনায় থাকেন। সমকালীন বিষয়, ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যাপার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সরব এই অভিনেত্রী।
সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও বাবা-মাকে নিয়ে বেশ কিছু ব্যাপার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। এ অভিনেত্রী বলেন, “ছোটবেলায় আমরা সবাই বাচ্চাদের বলে থাকি, একদম মায়ের মতন হয়েছে বা পুরো বাবার মতন। অনেক সময় অবাঞ্ছিত প্রশ্নও করি, তোমাকে কার মতন দেখতে? যেন বাচ্চাটার দায় পড়েছে সেটা জানার বা বোঝার বা বলার। কার মতন দেখতে, তাই দিয়ে হবেটা কী? সমাজ অজান্তেই সর্বক্ষণ প্রমাণ চায়—আসলেই আমরা আমাদেরই বাপ-মায়ের কি না?”
নিজের সঙ্গে ঘটা ঘটনা উল্লেখ করেছেন স্বস্তিকা মুখার্জি। তিনি বলেন, “আমি তো আরো বিকট প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি—তোমার বাবা-মায়ের চোখ তো এরকম নয়। কার মতন হলে? ভাই, আমাকে কি কেউ জিজ্ঞেস করেছিল আমার চোখ কেমন হবে? এটা কি লেন্সকার্টের দোকান যে, গিয়ে অর্ডার দিয়েছি আর ভগবান ফটাফট আমার পছন্দের লেন্স নিয়ে বসিয়ে দিয়েছে! আমার বাবা-মা এসব বোকা প্রশ্নের উত্তর কোনোদিন দিত না। আমি একা পড়ে গেলে বলতাম যে, ঠাকুরদাদার থেকে পেয়েছি।
স্বস্তিকা মনে করেন, সে দেখতে তার বাবার মতো আর তার বোন মায়ের মতো হয়েছেন। স্বস্তিকার ভাষায়, “আমি জানতাম আমাকে বাবার মতন দেখতে। এখনো তাই জানি, বাবাও তাই জানত, মা-ও তাই। বোন পুরো মা—কপি পেস্ট। যত বয়স বাড়তে লাগল, বোন আরো মা হয়ে গেল। একটা লাল টিপ পরে নিলেই ব্যস। বাবার বন্ধুরাও, মা চলে যাওয়ার পর, কোথাও বোনের সঙ্গে দেখা হলে বলত—অবিকল খুকু, এই বুবু এরকম কী করে হয়ে গেলি ইত্যাদি।”
বোন মায়ের মতো কেন হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন স্বস্তিকার। বিষয়টি নিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমিও ছোট থেকেই চাইতাম যে, বোন কেন মায়ের মতন হলো? আমি কেন নয়? মা কী সুন্দর, হাতের আঙুলগুলোর মধ্যেও যেন মাতৃত্ব চুঁইয়ে পড়ছে। বোনের অবশ্য সবটাই মা-ঘেঁষা। শরীরের গঠন, হাঁটাচলা, রান্নার ন্যাক, রান্নায় পারদর্শিতা, এমনকি পোস্ট প্রেগন্যান্সি মায়ের যেমন একটাও স্ট্রেচ মার্ক ছিল না, বোনেরও হলো না। আমার আবার পুরোটাই বাবা-ঘেঁষা। আম্মার প্রচুর প্রেগন্যান্সি মার্কস ছিল, আমারও হলো। সারা দুনিয়ার সব ক্রিম মেখে নিয়েও সেই দাগ যায় না। সাধারণ ঘরের মায়েরা এবং মেয়েরা একদম এই নিয়ে দুঃখ করবেন না। সবার হয়। এখন যেখানে পারি চরিত্রে ব্যবহার করে নিই। আছেই যখন, কাজে লাগানোই ভালো।”
স্বস্তিকার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। এ অভিনেত্রী তাদের মতোই হতে চান। এই ইচ্ছা প্রকাশ করে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “বাবা-মা দুজনেই চলে যাওয়ার পর মনে হতো আমি যেন দুজনের মতোই হই। দুজনের মতন দেখতে, দুজনের মতন সবটাই যেন থাকে আমার মধ্যে। খুব মনোযোগ দিয়ে তাকালেই সেই বাবার মতন চোখটা লক্ষ্মী ট্যারা হয়ে যায়, যাক শান্তি। কিন্তু মায়ের মতো তো কিছুতেই হচ্ছে না, এদিকে আমার বোন প্রায় প্রত্যেক মাসেই অল্প অল্প করে আরো মায়ের মতন হয়ে যাচ্ছে।”
দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনের ঘটনা বর্ণনা করে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “অষ্টমীর সকালে, সন্ধিপূজা শেষ করে বাড়ির ঠাকুরের জন্য ফুল কিনতে বাজারে যাব, ফিরতি পথে ভাবলাম দুটো ঠাকুর দেখে নিই, নিলামও, চেতলা অগ্রণী আর সুরুচি সংঘ। হালকা একটা রোদ এসে পড়ছিল মুখে, গাড়িটা সিগন্যালে আটকে আছে দেখে ভাবলাম ধুর, প্যান্ডেলে একটাও ছবি তুলতে ভুলে গেলাম, এখনই তুলে রাখি। সেই ছবি তুলে আর দেখিনি, মানে চেক করিনি। এখন শুটিং থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূজার এক কোটি ছবি চেক করতে গিয়ে সেদিন সকালের ছবিগুলো দেখলাম। পুরো মা। আমার মা। কপি পেস্ট মা।”
বোনের কাছে প্রশ্ন রেখে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, “বোন হপ্তায় (সপ্তাহ) হপ্তায় মা হয়ে উঠছে, ওকে সর্বক্ষণ মায়ের জুনিয়র কপি লাগে। আমার নাহয় ৪৫টা পূজা লাগল, তাও তো হলাম। আড়ম্বরহীন এটাই আমার আসলটা। এমনটাই যেন থাকি। মা-ও এমনটাই ছিল। সত্য সর্বদাই সুন্দর। কী রে বোন কি বলিস?”
