পরিস্থিতি খুব মসৃণ নয়। জেন-জ়ি বিক্ষোভে সদ্য অশান্ত হয়েছে রাজধানী। নির্বাচনী অসঙ্গতির প্রতিবাদ জানিয়ে পথে বিরোধীরা। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে দলকে গুছিয়ে নিতে মাঠে নামছেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, আগামী ৩০-৩১ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশে রাজ্য বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তার পরে আগামী মাসে ওই রাজ্যের মূল ছ’টি রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রে (পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ব্রজ, কানপুর, অওয়ধ, কাশী ও গোরক্ষপুর) সফর করে জল মাপবেন শাহ।
আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে গত জুলাই মাসে হওয়া জেন-জ়ি আন্দোলন বিরোধীদের যেমন অক্সিজেন জুগিয়েছে, তেমনই রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বিজেপি তথা আরএসএস নেতৃত্বকে। বিজেপি নেতাদের বিশ্লেষণ, জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে হওয়া বিক্ষোভগুলি থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, তরুণ প্রজন্মের একাংশ ভরসা হারিয়েছেন তাঁদের উপর থেকে। এই প্রবণতা ক্রমবর্ধমান হলে ২০২৯ সালে বিজেপির পক্ষে ক্ষমতা ধরে রাখা কষ্টকর হবে। সেই কারণেই যেনতেন প্রকারে লখনউয়ের তখ্ত বাঁচাতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব।
বাস্তবের মাটিতে পরিস্থিতি কতটা খারাপ, সেই তথ্য সংগ্রহ করতেই চলতি মাসের শেষে উত্তরপ্রদেশে যাওয়ার কথা রয়েছে শাহের। বিজেপি সূত্রের মতে, রাজ্য বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। তাতেই যোগ দিতে যাবেন শাহ। সূত্রের মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় তিন হাজার নেতা-কর্মী ওই বৈঠকে যোগ দেবেন। বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘দল যে উত্তরপ্রদেশে ভাল অবস্থায় নেই, তা বুঝতে পারছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাস্তবে দলের হাল কতটা খারাপ তা ওই বৈঠকে আগত কর্মী-নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝতে চাইবেন শাহ।’’ বৈঠকে মূল মনোযোগের ক্ষেত্রগুলি হল— তৃণমূল স্তরে দলের শক্তি বাড়ানো, বিশেষ করে বুথ পর্যায়ে যাতে কোনও খামতি না-থাকে, তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া দল ও সরকারের মধ্যে একাত্মতা, সমন্বয় বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হবে বৈঠকে।
সূত্রের মতে, কর্মসমিতির বৈঠকের পরেই গোটা উত্তরপ্রদেশ সফর করবেন শাহ। রাজ্যের ছ’টি রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রের এলাকাগুলি সফর করে দলের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। ছ’টি এলাকার মধ্যে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও অওয়ধে বরাবরই বিজেপি দুর্বল। কিন্তু এক সময়ে বিজেপির ঘাঁটি বলে পরিচিত ব্রজ ও কাশী এলাকাতেও এখন দুশ্চিন্তা বাড়ছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। কারণ, ওই দুই এলাকাতে বিরোধীরা ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতারা। তুলনায় কানপুর ও গোরক্ষপুরে বিজেপি ভাল অবস্থায় রয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, সাম্প্রতিক জেন জ়ি বিক্ষোভ ও বিরোধীদের অতি-সক্রিয়তার পরে উত্তরপ্রদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে এবং তার ভিত্তিতে পরবর্তী রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজাতেই ওই রাজ্য সফরেযাচ্ছেন শাহ।
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
