শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবারের মধ্যে ভারতের উপকূলে আঘাত হানতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) প্রকাশিত বুলেটিনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, উপকূলে আঘাত হানার সময় ‘অর্ণব’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ঝড় হারিকেন এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টাইফুন নামে পরিচিত। বঙ্গোপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ঘূর্ণিঝড় নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বন্যা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার তার কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি জেলায় মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ৪ হাজার ৭০০-এর বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় স্কুল বন্ধ, সেনাবাহিনী সতর্ক
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কায়ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে, ঝড়ের কারণে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে।
কলম্বোর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।