নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামের প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে দেওয়া অনুমোদন পুনরায় তদন্ত করে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. স্বপন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে এ বিষয়ে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর, টিনের মসজিদ ও হরণী এলাকায় সার ডিলার হিসেবে ‘জায়ান ট্রেডার্স’-এর অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হিসেবে মো. ফজলে রাব্বী শামীমের নাম উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামে সার বিক্রির কোনো দোকানের অস্তিত্ব নেই।
ফজলে রাব্বী শামীম বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার খাসেরহাট রাস্তার মাথায় ‘শামীম ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। এ অবস্থায় তার নামে সার ডিলারশিপ অনুমোদনের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের নামে সার ডিলারশিপ দেওয়া হলে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন।
এ কারণে ‘জায়ান ট্রেডার্স’-এর নামে দেওয়া অনুমোদন বাতিল করে যোগ্য ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে সুবর্ণচরের খাসেরহাট রাস্তার মাথায় ‘শামীম ডেন্টাল কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফজলে রাব্বী শামীম সেখানে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দন্ত চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখেন। তার সার ও বীজের ব্যবসা থাকার বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিছু জানেন না বলে জানান।
অন্যদিকে হাতিয়ার হরণী ইউনিয়নের উল্লিখিত এলাকাগুলোতেও ‘জায়ান ট্রেডার্স’ নামে সার-বীজের দোকান দেখেননি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগের বিষয়ে মো. ফজলে রাব্বী শামীম মুঠোফোনে বলেন, আবেদন করার আগেই তিনি দোকানের জন্য চুক্তি করেছিলেন। ডিলারশিপ পাওয়ার পর এখন সার বরাদ্দ পেলে ব্যবসার কার্যক্রম শুরু করবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপপরিচালক আশীষ কুমার কর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআলো/আমিনা