বিশ্ববাজারে দুধ ও দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) নিলামে দুগ্ধপণ্যের দাম টনপ্রতি ৪ হাজার ২১ ডলারে লেনদেন হয়। এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে গুঁড়া দুধের দরবৃদ্ধি এবং এশিয়ার ক্রেতাদের জোরালো চাহিদা। গত ফেব্রুয়ারির পর সূচকটির এটিই সবচেয়ে বড় উত্থান। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে শুষ্ক আবহাওয়া ও এল নিনোর আশঙ্কা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, ইডেইরি ও ফারমারস উইকলি।
সর্বশেষ নিলামে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বাটারমিল্ক পাউডারের। পণ্যটির দাম ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৬৯৪ ডলারে কেনাবেচা হয়। ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৬০ ডলারে। আর স্কিমড মিল্ক পাউডার বা ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পণ্যটি টনপ্রতি ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে লেনদেন হয়, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আগের নিলামেও দুগ্ধপণ্যের দাম বেড়েছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। নিউজিল্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এনজেডএক্স) দুগ্ধপণ্য বিশ্লেষক রোজালিন্ড ক্রিকেট বলেন, ‘সর্বশেষ নিলামের ফলাফল অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। এর আগে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডে দুধ সংগ্রহের পরিমাণ নতুন রেকর্ড গড়েছে। এ সময়ে দুধের সলিড উৎপাদনও ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।’ তবে উৎপাদন বৃদ্ধির গতি কমে আসছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক বসন্ত দেখা যাচ্ছে। গ্রীষ্মের শুরু থেকে মাঝামাঝি এল নিনোর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে আগামী মাসগুলোয় দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
নিলামে সব দুগ্ধপণ্যের দাম বাড়েনি। চেডার পনিরের দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩ হাজার ৬৪৫ ডলারে নেমেছে। মজুদ ও রফতানির পরিমাণ বাড়ায় পণ্যটির দামে চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট বা দুগ্ধজাত বিশুদ্ধ চর্বির দাম ৩ দশমিক ৪ এবং মাখনের দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। পণ্য দুটি যথাক্রমে টনপ্রতি ৫ হাজার ৪৮৮ ও ৪ হাজার ৭২১ ডলারে বেচাকেনা হয়।
