আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান। খনির ভিতরে ডুলিতে আটকে থাকা প্রায় ১২ জন শ্রমিককে অবশেষে উদ্ধার করা হল পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কোলিয়ারিতে। পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে খনির ভিতরে শ্রমিকরা আটকে থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অবশেষে তাঁদের উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে খনি চত্বরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খনির ভিতরে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ডুলিতে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। এর জেরে ডুলির মধ্যে আটকে পড়েন প্রায় ১২ জন শ্রমিক। প্রথমে দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধারকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর। উদ্ধারকাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে ডুলিতে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ। শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, কুমারডিহি কোলিয়ারিতে মাঝেমধ্যেই ডুলি নিয়ে যান্ত্রিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। কখনও ডুলি আটকে যাওয়া, আবার কখনও দড়ি ছিঁড়ে যাওয়ার মতো বিপত্তির ঘটনাও ঘটে বলে তাঁদের দাবি। বারবার এমন সমস্যা দেখা দেওয়া সত্ত্বেও কেন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
খনির ভিতরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সেখানে ডুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য যন্ত্রপাতির নিয়মিত পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার উদ্বেগ কাটিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধার করা গেলেও, কুমারডিহি কোলিয়ারির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই ঘটনায় খনি কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে শ্রমিক মহলের।
