রঞ্জি ট্রফিতে টানা দু’ম্যাচে দ্বিশতরান করলেন আয়ুষ বাদোনি। দিল্লির অধিনায়ক ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে অপরাজিত থাকলেন ২১০ রানের ইনিংস খেলে। বিনোদ কাম্বলি, গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলিদের নজির স্পর্শ করলেন ২৬ বছরের ব্যাটার।
লাল বলের ক্রিকেটে পর পর দু’ম্যাচে দ্বিশতরান করার নজির বিরল নয়। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন কেএস রঞ্জিত সিংহজি। ১৯০০ এবং ১৯০১ সালে দু’বার পর পর দু’টি ম্যাচে দ্বিশতরান করেছিলেন। এমন নজির রয়েছে বিনু মাঁকড়েরও। তিনি ১৯৪১-৪২ এবং ১৯৪৪-৪৫ মরসুমে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। রঞ্জিত সিংহজির পর মাঁকড়-সহ আরও ১৮ জন ভারতীয় ক্রিকেটার পর পর দু’টি টেস্ট বা প্রথম শ্রেণির ম্যাচে দ্বিশতরান করেছেন। ভারতের ২১তম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন বাদোনি।
রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন বাদোনি। বাংলার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের দু’ইনিংসে করেছিলেন ২৩ এবং ৮৫ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে গুজরাতের বিরুদ্ধে করেছিলেন ২১৭। এ বার ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধেও দ্বিশতরান করলেন বাদোনি। সোমবার খেলা শেষ হওয়ার সময় ১২২ বলে ১০৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাঁকে শেষ পর্যন্ত আউট করতেই পারলেন না ঝাড়খণ্ডের বোলারেরা। শেষ পর্যন্ত ২২৮ বলে ২১০ রানের অপরাজিত ইনিংসে বাদোনি মারেন ১৯টি চার এবং ৩টি ছয়।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি বাদোনির ষষ্ঠ শতরান। চতুর্থ দ্বিশতরান। ঝাড়খণ্ড ম্যাচের আগে পর্যন্ত লাল বলের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর গড় ৫৮.৩১। তা-ও এখনও তাঁকে ভারতের টেস্ট দলের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি ধ্রুব জুরেলের নেতৃত্বাধীন ভারত ‘এ’ দলেও তাঁর জায়গা হয়নি। জাতীয় নির্বাচকদের কাছে ব্রাত্য হলেও প্রতি ম্যাচে ব্যাট হাতে জবাব দিচ্ছেন বাদোনি।
বাদোনি ছাড়াও দিল্লির হয়ে বড় রান করেছেন সুমিত মাথুর। তিনি অপরাজিত থাকেন ১৫০ রান করে। বাদোনি এবং মাথুর ষষ্ঠ উইকেটের জুটিতে যোগ করেন ৩৩৪ রান। মাথুরের ১৫০ রান পূর্ণ হওয়ার পর ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন বাদোনি। তখন দিল্লির রান ছিল ৫ উইকেটে ৫১৫। এর পর দিনের শেষে ঝাড়খণ্ডের রান ৪ উইকেটে ১৩১।
পর পর দু’ম্যাচে দ্বিশতরান করার নজির রয়েছে গম্ভীর, কোহলি, কাম্বলি, নবাব পতৌদি, রুসি মোদী, বিজয় মার্চেন্ট, দিলীপ বেঙ্গসরকার, অরুণলাল, ডব্লিউভি রমন, সুরেন্দ্র ভাবে, বেনুগোপাল রাও, সরফরাজ় খানের মতো ক্রিকেটারদেরও।
